বিশ্বে জনবহুল নগরের তালিকায় ৯ থেকে ২ নম্বরে ঢাকা, শীর্ষে জাকার্তা
বিশ্বজুড়ে শহরমুখী মানুষের চাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেগা সিটির সংখ্যা। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিশ্বের জনবসতির নতুন চিত্র। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরের তালিকায় শীর্ষে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। আর ৯ নম্বর থেকে এক লাফে ২ নম্বরে উঠেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাকার্তায় বসবাস করেন ৪ কোটি ১৯ লাখ মানুষ। ইন্দোনেশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ জাভার পশ্চিমাংশে অবস্থিত এই উপকূলীয় শহরটি কয়েক বছর ধরেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিক থেকে দ্রুত এগোচ্ছে।
ঢাকার অবস্থান এবার দ্বিতীয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানী ঢাকায় এখন বসবাস করেন ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে জাকার্তাকে পেছনে ফেলে ঢাকা হবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর, এমন পূর্বাভাসও দিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (UNDESA) এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে। ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের পূর্ববর্তী জনসংখ্যার তথ্য হালনাগাদ করা হয়। স্কাই নিউজ জানিয়েছে, এই তথ্য মূলত অনুমাননির্ভর হলেও সাম্প্রতিক জনসংখ্যা প্রবণতার নির্ভরযোগ্য প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরে টোকিওর জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও ঢাকা ও জাকার্তার জনসংখ্যা বেড়েছে নাটকীয়ভাবে। ২০০০ সালের পর থেকে জাকার্তার জনসংখ্যা বেড়েছে ৫ গুণ হারে, আর ঢাকার জনসংখ্যা বেড়েছে ৭ গুণ।
বর্তমানে বিশ্বের ৩৩টি মেগা সিটি—অর্থাৎ এক কোটির বেশি জনসংখ্যার শহর—মধ্যে ১৯টি এশিয়ায়। শীর্ষ ১০ নগরের মধ্যে ৯টিই এই অঞ্চলে। টোকিও (৩ কোটি ৩৪ লাখ), নয়াদিল্লি (৩ কোটি ২ লাখ), সাংহাই (২ কোটি ৯৬ লাখ), গুয়াংজু (২ কোটি ৭৬ লাখ), ম্যানিলা (২ কোটি ৪৭ লাখ), কলকাতা (২ কোটি ২৫ লাখ) এবং সিউল (২ কোটি ২৫ লাখ) রয়েছে যথাক্রমে শীর্ষ তালিকায়।
এশিয়ার বাইরে শীর্ষ ১০–এ একমাত্র শহর মিসরের কায়রো, যার জনসংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ।
লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে জনবহুল শহর ব্রাজিলের সাও পাওলো—বাসিন্দা ১ কোটি ৮৯ লাখ।অন্যদিকে সাব-সাহারান আফ্রিকায় সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা নাইজেরিয়ার লাগোসে।
বিশ্বব্যাপী মহানগরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ, অবকাঠামো ও জীবনমানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

