নির্বাচন ঠেকাতে চাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, যারা নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভোটার, সাংবাদিক ও দেশবাসী সবাই মিলে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন—এই প্রত্যাশা রাখেন তিনি।
বুধবার সকালে পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সিইসি জানান, এটি সরকারের নীতিগত বিষয়। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে বলেও জানান তিনি।
মহড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য চিত্র বিবেচনায় করে আয়োজন করা হয়েছে। বিজিবি যেভাবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে, তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন ঘন ঘন আসে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। পুলিশ ১৩০টি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, আনসার ও ভিডিপিও মহড়া দিচ্ছে। বিজিবির এই অনুশীলন সদস্যদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত করবে।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর তুলনায় এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে। নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসবে, পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।
৩০ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আবার বৈঠক হবে এবং সেদিনই বাহিনী মোতায়েনের কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী কন্টিনজেন্ট আকারে কাজ করে, তাই মোতায়েনের আগে যথাযথ পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি জানান, কেন্দ্রগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে তাদের ১২১০ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সন্দীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া ছাড়া সব উপজেলাতে বিজিবি থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ১১৫টি উপজেলার ৬০টিতে তারা এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
মহড়ায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

