Logo
Logo
×

সংবাদ

সাবেক আইজিপির পর দ্বিতীয় রাজসাক্ষী হলেন আরেক পুলিশ সদস্য

Icon

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪২ পিএম

সাবেক আইজিপির পর দ্বিতীয় রাজসাক্ষী হলেন আরেক পুলিশ সদস্য

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক এসআই শেখ আবজাল হোসেন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

শুনানির সময় মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান এবং কনস্টেবল মুকুল। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

জবানবন্দিতে আবজাল হোসেন বলেন, গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ মোবাইল ফোনে আন্দোলন দমন ও বিরোধীদের গ্রেপ্তারে প্রায়শই নির্দেশনা দিতেন। ৫ আগস্ট সকালে থানার সব কর্মকর্তা ও অধস্তনদের উপস্থিত করে ওসি শক্তভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে তিনি ফোর্সসহ বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে যান। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বিকেল আড়াইটার দিকে ফোর্স নিয়ে থানায় ফিরে এসে সদস্যদের থানার পূর্ব-পশ্চিমে মোতায়েন করেন।

আবজাল জানান, বিকেল ৪টায় ছাত্র-জনতার একটি অংশ থানার দিকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসলে ওসির নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে নিহতদের লাশ থানা থেকে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। আবজাল বলেন, ওই সময় তিনি নার্ভাস অনুভব করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং সিভিল পোশাকে নিজের বাসায় অবস্থান নেন।

তিনি আরও জানান, ১৫ আগস্ট থানায় গিয়ে তার নামে ইস্যু করা পিস্তল ও গুলি জমা দেন। থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, লাশগুলো পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় ওসি ও এসআই বিশ্বজিৎ থানায় থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টে চলে যান।

আবজাল হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, শহীদ ভাইদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে আমি কোনো প্রলোভন–প্ররোচনা ছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আবেদন করি। যাতে ট্রাইব্যুনালকে সত্য তথ্য দিয়ে বিচারকাজে সহায়তা করতে পারি এবং শহীদ ভাইদের পরিবারের প্রতি কিছুটা ঋণ পরিশোধ করতে পারি।

জবানবন্দি শেষে তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান দ্বারা জেরার মুখোমুখি হন। ৫ আগস্টের পরও থানায় যোগ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবজাল বলেন, ‘ওই ঘটনা দেখার পর আমি মানসিকভাবে ট্রমায় ছিলাম।’

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন