Logo
Logo
×

সংবাদ

আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বে খুন করা হয় সন্ত্রাসী মামুনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম

আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বে খুন করা হয় সন্ত্রাসী মামুনকে

রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫) হত্যায় অংশ নেওয়া দুই শুটারসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুই শুটার হলেন ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক ও রবিন। বাকি তিনজন হলেন ইউসুফ, রুবেল ও শামীম। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। 

শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ফারুক ও রবিন পেশাদার শুটার। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, নগদ টাকা এবং হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত জুটি ইমন-মামুনের দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রনি। যিনি একসময় মুদিদোকানি ছিলেন এবং বর্তমানে কাফরুলের বাসিন্দা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। মামুনকে হত্যা করতে ইমনের হয়ে রনি নিজে ২ লাখ টাকা দেন এবং অস্ত্রও সরবরাহ করেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তার। রনি এখনো পলাতক। তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ১০ নভেম্বর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটকের সামনে গুলি চালায় দুই অস্ত্রধারী। এতে গুরুতর আহত হন তারিক সাইফ মামুন। প্রথমে তাঁকে ন্যাশনাল মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই ডিবি তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে সিলেট, নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকা থেকে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা, যা হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক হিসেবে মূল পরিকল্পনাকারী রনি দিয়েছিলেন।

ডিবি জানায়, ফারুক ও রবিন হত্যার পর রনির নির্দেশে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি রেন্ট-এ-কারচালক রুবেলের কাছে দেন। পরে রুবেল অস্ত্রগুলো পেয়ে রনিকে জানানোর পর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় ইউসুফ নামের এক দরজির বাসায় নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। ইউসুফের ঘর তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউসুফ ও রুবেল স্বীকার করেছেন, রুবেল হত্যার দিন অস্ত্রভর্তি ব্যাগ ইউসুফের কাছে রেখে গিয়েছিলেন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন