চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীকে গুলি, জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় এরফানুল হক শান্ত নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া হামলায় সারোয়ার হোসেন বাবলা নামে আরও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। বাবলা শিবির নামধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ চালিতাতলী এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে মোটরসাইকেল আরোহী চার দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এরশাদ উল্লাহ এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপরজনও আইসিইউতে আছেন। আর গুলিবিদ্ধ আরেকজন মারা গেছেন।
নিহত সারোয়ার শিবির নামধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতা বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কারা কেন এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। কারা কী কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে সেই বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
তবে শিবিরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুটি গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ হামলার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে।
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনাটি জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি এ হামালার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক না কেন তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে যাতে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত সারোয়ার হোসেন বাবলার বাবা আবদুল কাদের বলেন, এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের লোকজন। সাজ্জাদ এ পর্যন্ত ১৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
গণসংযোগকালে প্রকাশ্যে একজন প্রার্থী ও তার অনুসারীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার তৈরি অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও।

