নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন না হলেও ‘আগে গণভোট চায় জামায়াত
নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও ‘জুলাই সনদ’-এর বাস্তবায়ন যাতে বিলম্বিত না হয়, সে লক্ষ্যে আগেই গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তাহের বলেন, ‘যদি কোনো কারণে জাতীয় নির্বাচন ঠিক সময়ে না হয়—যদিও আমরা চাই, ইনশাআল্লাহ ঠিক সময়েই হোক—তবুও তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। এটি একটি সংস্কারমূলক দলিল। তাই নির্বাচন ও সনদ বাস্তবায়নকে একসূত্রে বাঁধা ঠিক হবে না। এতে করে সনদটি অনিশ্চয়তায় পড়ে যেতে পারে।’
বুধবার রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা ও ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট’-এর প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সুপারিশপত্র মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুপারিশে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই আদেশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে, অথবা নির্বাচনের দিনই, যথাযথ সময়ে গণভোট আয়োজন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে।
যদিও সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য রয়েছে, ভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। জামায়াত চায়, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগেই—এই নভেম্বরে—গণভোট অনুষ্ঠিত হোক।
তবে বিএনপি এই প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাদের মতে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করাই সবচেয়ে যৌক্তিক হবে।
এই প্রসঙ্গে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তাহের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনের আগে গণভোট নেওয়াই হবে যথাযথ সিদ্ধান্ত। কারণ, গণভোট হচ্ছে সংস্কারমূলক দলিল নিয়ে জনগণের মত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। আর জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নির্ধারণের প্রশ্ন। দুইটির চরিত্র ভিন্ন।’
তাহের আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ জাতীয় জীবনের গভীরে পরিবর্তন আনতে পারে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ৫৫ বছরে এই ধরনের কোনো কাঠামোগত সংস্কার শুরু হয়নি।’
কমনওয়েলথ দলের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন, জামায়াত তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সেনা ও অন্যান্য বাহিনী—বিজিবি, র্যাব—নিয়োগসহ নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাহের।

