Logo
Logo
×

সংবাদ

পে-কমিশনে প্রস্তাব

সর্বনিম্ন বেতন ২৫ হাজার, সর্বোচ্চ দেড় লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৮ পিএম

সর্বনিম্ন বেতন ২৫ হাজার, সর্বোচ্চ দেড় লাখ

নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার পে-কমিশনে এই প্রস্তাব জমা দেন। 

সূত্রমতে, পে-কমিশনের কাছে দুই ধরনের প্রস্তাব পেশ করেছে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। প্রথমটি হচ্ছে বিদ্যমান বেতন কাঠামো বহাল রেখে নতুন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন এবং দ্বিতীয়টি-বিদ্যমান বেতন কাঠামো বাতিল করে বিকল্প হিসাবে সাকুল্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন।

সাকুল্য বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান বেতন কাঠামোর ভাতাসহ আর্থিক ও অনার্থিক কোনো সুবিধাই থাকবে না। প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে চালু আছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানান, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে, তা সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে। ডিসেম্বরে চলতি বাজেট সংশোধনের কাজ শুরু হবে। পে-কমিশনের গেজেট প্রকাশের ওপর এ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে। তবে আগামী বছরের শুরুতে এটি কার্যকর হতে পারে।

প্রস্তাবে সচিবালয়ে নিয়োজিত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ‘সচিবালয় ভাতা’ এবং ‘রেশন সুবিধা’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এর যৌক্তিকতা দেখানো হয়-সচিবালয়ে নিয়োজিত জনবল সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় মূল চালিকাশক্তি। কাজের গুরুত্ব ও দায়িত্বে ভিন্নতা বিবেচনায় সরকারের বেশকিছু দপ্তর এরূপ ভাতা দিচ্ছে। যেমন: রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ‘টিপটপ ভাতা’; সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োজিত জনবলের জন্য ‘রেশন সুবিধা’ ও ‘ঝুঁকি ভাতা’ এবং জুডিশিয়ারি ক্যাডারভুক্তদের জন্য ‘বিশেষ ভাতা’।

প্রস্তাবে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, বিশেষ ইনক্রিমেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা পুনর্বহাল অথবা ৪টি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার কথা বলা হয়। 

এছাড়া বিদ্যমান বেতন স্কেলের অপ্রয়োজনীয় কিংবা কম ব্যবহৃত গ্রেডগুলো বাদ দিয়ে মোট ১২টি গ্রেড নির্ধারণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে নতুন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন যে হারে বেড়েছে, অন্য গ্রেডের ক্ষেত্রে একই হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেতন স্কেল, ১৯৭৩-এ গ্রেড সংখ্যা ছিল ১০টি। 

বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে বেশ কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় কিংবা কম ব্যবহৃত গ্রেড আছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে ভিন্ন ভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ আবশ্যক নয়। যেমন: অফিস সহায়ক, মেসেঞ্জার, দপ্তরি, প্লেন ফটোকপিয়ার-এসব পদ একই গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। একইভাবে কম্পিউটার অপারেটর, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে একই গ্রেডভুক্ত করা যেতে পারে। এজন্য ৪র্থ শ্রেণির জন্য ২টি (১৯-২০ ও ১৭-১৮ গ্রেড), ৩য় শ্রেণির জন্য ২টি (১৩-১৬ ও ১১-১২), ২য় শ্রেণির জন্য ১টি গ্রেড অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া ৬ষ্ঠ ও ৮ম গ্রেডের কোনো বাস্তব ব্যবহার নেই। এ কারণে ৮ম-৯মকে ১টি এবং ৫ম ও ৬ষ্ঠকে ১টি গ্রেডে একীভূত করা যেতে পারে।

প্রস্তাবে আরও আছে, বর্তমান বেতন কাঠামোর ১০ম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা টিফিন ও যাতায়াত ভাতা পাচ্ছেন না। তারা দাপ্তরিক মাইক্রোবাস বা অন্য কোনো পরিবহণ সুবিধাও পান না। তাই ‘টিফিন ভাতা’ ২০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার এবং ‘যাতায়াত ভাতা’ ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকা বৃদ্ধিসহ এ দুটি সুবিধায় ১০ম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সূত্র: যুগান্তর 

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন