Logo
Logo
×

সংবাদ

জবি ছাত্র হত্যা প্রেম ঘটিত, ধারণা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫২ এএম

জবি ছাত্র হত্যা প্রেম ঘটিত, ধারণা পুলিশের

জুবায়েদ হোসাইন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কঘটিত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত জুবায়েদের ছাত্রী তাকে ‘পছন্দ করতেন’। সেই তথ্য তার প্রেমিক মাহির রহমান জেনে যাওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

ওসি বলেন, ছাত্রীটির সঙ্গে মাহিরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তারা ছোটবেলা থেকেই পাশাপাশি বাড়িতে বড় হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকেই একে অপরকে পছন্দ করত। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি মাহিরকে জানায়, সে জুবায়েদকে পছন্দ করে।

তবে মেয়েটি দাবি করেছে, জুবায়েদের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। এমনকি জুবায়েদের সঙ্গে তার বার্তা আদান-প্রদানেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি আরও বলেন, মাহির পুরান ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, আর তিনি নিজে পড়েন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে।

ওসি রফিকুল বলেন, ‘‘তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক ভাঙার পরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। তবে এটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।’’

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মেয়েটির মধ্যে কোনো মানসিক অস্থিরতা, আতঙ্ক বা অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং সে ছিল ‘চিন্তামুক্ত’।

ওসি বলেন, ‘‘সে একটুও নার্ভাস ছিল না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে স্থির ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। আমরা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছি। সময়মতো বিস্তারিত জানানো হবে।’’

নিহত জুবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।

বছরখানেক ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি বাসায় ওই ছাত্রীকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সেই বাসার নিচে ছুরিকাঘাতে আক্রান্ত হন জুবায়েদ। রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ঘটনাস্থলের সিঁড়িতে তিনতলা পর্যন্ত রক্ত ছড়িয়ে ছিল। সিঁড়ির ওপরেই পাওয়া যায় নিথর দেহ।

এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে জড়ো হন তার সহপাঠী, জবি’র বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

ঘটনার পর পুলিশ পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাত ১১টার দিকে ছাত্রীটিকে হেফাজতে নেয়া হয়। জুবায়েদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, ‘‘তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’’

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁতীবাজার এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে তারা মিছিল নিয়ে বংশাল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। তখন তারা স্লোগান দেন— ‘আমার ভাই মর্গে, খুনি কেন বাইরে’, ‘বিচার চাই’, ‘ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘তালবাহানা চলবে না’।

রোববার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুবায়েদের প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত নিহত জুবায়েদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। পরিবার দাবি করেছে, তারা রাত ১টা থেকে মামলা করতে চেষ্টা করলেও পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘কারা কারা আসামি হবে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহে একটু সময় লাগছে। অভিযানে আমরা নেমেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’’


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন