Logo
Logo
×

সংবাদ

গুমের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি: এইচআরডব্লিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৩ পিএম

গুমের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে গুম, গোপন আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং কিছু উচ্চপদস্থ সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পরপরই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে ন্যায়বিচারের পথে এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সংস্থাটি এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত নীতিগত প্রশ্নগুলো এখনো সমাধান হয়নি।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির একটি বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধে ঘটনাপ্রবাহকে মূল্যায়ন করা হয়েছে—যার শিরোনাম, ‘ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ’। তিনি তাঁর লেখায় ২০১৭ সালের একটি পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের কথা স্মরণ করেছেন, যেখানে গুম ও গোপন আটকের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেদনটিকে 'অপপ্রচার' বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি উল্লেখ করেছেন, সেই সময় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যত কোনো তদন্ত শুরু হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাসনকালীন সময়ে শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃত্ববাদী আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযুক্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাক্‌স্বাধীনতা রোধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে দেশটি বারবার সমালোচিত হয়েছে। সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে অথবা নিরুত্তাপ আশ্বাস দিয়ে এড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালে এক মাসব্যাপী বিক্ষোভ-আন্দোলনের পর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায়। প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানির পর শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং তাঁরা দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাঁদের অন্যতম পদক্ষেপ ছিল—‘গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশন’ গঠন করা। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ১,৮৫০-এরও বেশি।

তদন্তে প্রকাশ, এদের মধ্যে ৩০০ জনের অধিক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে। কমিশনের পক্ষ থেকে ‘Unfolding the Truth’ নামক একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ উঠে এসেছে।

এই তথ্য-উপাত্তকে ভিত্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করার পর ট্রাইব্যুনাল ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, যিনি এক সময় গুমবিষয়ক নথিপত্র এইচআরডব্লিউ’র সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠিও লিখেছিলেন। পরে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ আট বছর একটি গোপন সামরিক বন্দিশালায় আটক ছিলেন এবং হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি লেখার এক পর্যায়ে বলেন, “মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমরা প্রায়ই এমন দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করি—যখন সত্যটা প্রকাশ পাবে, বিচার এগোবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আজও ঘটছে। ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এই বিচারিক অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বটে, তবে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ ও ভবিষ্যতে মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো গভীরভাবে বিবেচ্য।”

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন