Logo
Logo
×

সংবাদ

নতুন সরকারেও উন্নতি হয়নি মানবাধিকার পরিস্থিতির: এইচআরএসএস

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০২ পিএম

নতুন সরকারেও উন্নতি হয়নি মানবাধিকার পরিস্থিতির: এইচআরএসএস

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও দেশের মানুষ এখনো স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পায়নি। বাংলাদেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, মানবাধিকার, ও গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরও মানবাধিকার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। ২০২৫ সালের ১ম নয় মাসেও মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা উদ্বেগজনক। নতুন বছরে মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা থাকলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্বের ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি এতে নতুন কিছু ধারাও যুক্ত হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার  মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির’ (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।  

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ম নয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা না ঘটলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, গণপিটুনিতে নির্যাতন ও হত্যা, নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণ, এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে মৃত্যু, শ্রমিকদের উপর হামলা, শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, কারাগারে মৃত্যু, সভা-সমাবেশে বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। এসময়ে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই,  ডাকাতি, ও হত্যাসহ বেশ কিছু সামাজিক অপরাধ ঘটেছে যা জনমনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বক্তব্য নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি, শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদন এবং সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস ও নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।  গত ১২ মে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাজধানীতে বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। আদালত ও কারা ফটকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর হামলা; থানা ও পুলিশের ওপর হামলা করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে । দেশে সন্ত্রাসবাদ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে ও বিশেষ অভিযানে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ভারত সীমান্তে সংঘর্ষ, উত্তেজনা, বিএসএফের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেড়া নির্মাণ, উস্কানি, বাংলাভাষী মানুষদেরকে পুশইন করা, এমনকি নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা, আহত ও গ্রেফতার এবং মিয়ানমারের আরাকান আর্মি কতৃক বাংলাদেশি জাহাজ ও জেলেদের আটক, সীমান্তে গুলি, মাইন ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের মত বিভিন্ন ঘটনা মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি কেন্দ্রিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে ও গুলিতে ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর উগ্র-উত্তেজিত জনতা সংগঠিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২০ টি বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) সামনে ৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে জনসম্মুখে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং শরীর থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে—যা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক। গত ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পাইলটসহ ৩৭ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী। 

১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন হেনস্থা ও গনপিটুনির শিকার হয়েছেন। ২৯ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইল বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের সাথে জাতীয় পার্টির সংঘর্ষের পর গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলায় সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জেরে ৩০ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের কয়েকটি জেলায় জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সহিংস ঘটনায় তিনজন পাহাড়িকে হত্যা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা এবং রামেসু বাজারের শতাধিক ঘর ও দোকানপাট অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু নির্বাচন কেন্দ্রিক নারী প্রার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়াবহ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশের ১৫ টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১ম নয় মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নিন্মোক্ত তথ্য উঠে এসেছে:

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর এ নয় মাসে কমপক্ষে ৬৯২ টি “রাজনৈতিক সহিংসতার” ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০৭ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৫৭৯ জন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ পরায়ণতা, সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখল কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ৬৯২ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তর্কোন্দলে ৩৯৫টি ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭৭৯ জন ও নিহত ৬১ জন, ১২৪টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৬২৪ জন ও নিহত ১৯ জন, ৩৯টি  বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩২৫ জন ও নিহত ২ জন, ১৬টি বিএনপি-এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৩৪ জন, ২০টি আওয়ামী লীগ-এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৬ জন ও নিহত ১ জন, ৭টি আওয়ামী লীগ-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন ও নিহত ২ জন, আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলে ১৩টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫৩ জন ও নিহত ৭ জন, এনসিপির অন্তর্কোন্দলে ১৩টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০ জন, ৪টি জাতীয় পার্টি- গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৩ জন, পুলিশ-গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩০ জন এবং ৬২টি ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। নিহত ১০৭ জনের মধ্যে  বিএনপির ৭১ জন, আওয়ামী লীগের ২৩ জন, জামায়াতের ৩ জন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ১ জন এবং ইউপিডিএফের ৬ জন। অপর ৩ জনের রাজনৈতিক পরিচয় মেলেনি যার মধ্যে ১ জন নারী রয়েছেন।  ৬৯২ টি সহিংসতার ঘটনার ৫৮৭ টিই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১১১টি ঘটনায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন এবং দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। এসকল হামলায় আওয়ামীলীগের ২৭ জন, বিএনপির ৪১ জন, জামায়াতের ১ জন নারী সদস্যসহ ৩জন ও অন্যান্য দলের ৮ জনসহ ৮০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এছাড়াও গত নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ, সাত শতাধিক বাড়ি-ঘর, রাজনৈতিক কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। 

২০২৫ সালের ১ম নয় মাসে ২৩৬ টি হামলার ঘটনায় ৩৪০ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় হত্যা করা হয়েছে ২ জন সাংবাদিকে, আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ২০৯ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৩৬ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৫৪ জন ও গ্রেফতার হয়েছেন ১১ জন সাংবাদিক । এছাড়াও ২৯ টি মামলায় ১০৩ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা যে, মার্চ মাসে রাজধানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাংবাদিক । গত ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) নামে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। গত ১লা সেপ্টেম্বর খুলনার খানজাহান আলী সেতুর (রূপসা সেতু) নিচ থেকে সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর (৬০) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সাংবাদিকের ডান হাত ও মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সাংবাদিক বুলু চ্যানেল ওয়ান, ভোরের কাগজ, বঙ্গবাণী, দৈনিক প্রবাহসহ গত প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করেছেন। গত ২২ আগস্ট  শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিভুরঞ্জন সরকার দৈনিক আজকের পত্রিকায় সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়াও গত ০৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের পর্যটন করপোরেশনের হোটেল শৈবালের পেছনে (পশ্চিমে) সমুদ্রসৈকতের ঝাউবাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আমিন (২৩) নামে এক তরুণ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ-এর উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি বলে জানা গেছে। 

এই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ১ জন সাংবাদিককে। এছাড়াও, গত নয় মাসে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর অধীনে দায়ের করা অন্তত ১৮ টি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১৩ জন এবং অভিযুক্ত করা হয়েছে ২৫ জনকে।

এটি উদ্বেগজনক যে, গত নয় মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির অন্তত ২৩৯ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩০ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২১২ জন । বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে, গত ২২ জুন সাবেক নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে হেনস্তা করা ও জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে, গত ১৬ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মানসিক ভারসাম্যহীন ৫০ বছর বয়সী এক বয়স্ক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহ করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা, গত ১৩ মে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জাকির হোসেন (৪১) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ৪ মার্চ দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই ইরানি নাগরিককে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়েছে, গত ৩ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের এওচিয়া ইউনিয়নে মাইকে ‘ডাকাত’ঘোষণা দিয়ে ২ জন জামাত কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদারীপুরে ডাকাতির ঘটনায় শরিয়তপুরে ৭জন ডাকাতকে গণপিটুনির ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২জন আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জের বাহুবলে মোবাইল ফোনসেট চুরির সন্দেহে জাহেদ মিয়া (২৮) নামে  এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করার এক পর্যায়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে । পাবনার ঈশ্বরদীতে চুরির অভিযোগ এনে এক নারীকে লোহার খুঁটিতে বেঁধে মারধর করার পর জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তিন কিশোরকে চোর সন্দেহে বেঁধে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই রিহান মহিন (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে সাজ্জাদ হোসেন (৩০) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৬১ জন আসামি মারা গিয়েছেন । এই ৬১ জনের মধ্যে ১৯ জন কয়েদী ও ৪২ জন হাজতি । এদের মধ্যে খুলনা, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্তার শিকদার, সিদ্দিক হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রাইজুল, ইমাম হোসেন ওরফে বাচ্চু, বাবুল হোসেন (বাবুল মেম্বার), সারোয়ার হোসেন নান্নু (৬৫), ইউসুফ আলী মিয়া (৭০)  নামে ৭ জন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । এছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি জেল হেফাজতে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

এটি উদ্বেগজনক যে, এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ২২ টি হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত, ৫ টি মন্দির, ৩৭ টি প্রতিমা ও ৩৮ টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের  ঘটনা ঘটেছে । এছাড়াও জমি দখলের মত ৩ টি ঘটনা ঘটেছে। নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি এস এম তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সন্দেহের বশে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডগরমশিয়াহাটী গ্রামের বেড়েধাপাড়ায় ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৩টি পরিবারের ১৮টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও গত ১৪ ই জুন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খেতুরী ধামে হিন্দু ও আদিবাসী সনাতনী সম্প্রদায়ের মিলনমেলা ও আলোচনা সভা স্থানীয় বিএনপির এক নেতার হামলায় পণ্ড হয়ে যায়। এসময় খেতুরী ধামের ব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র পাল ও হিন্দু আদিবাসী সনাতনের সদস্য সহদেব কুমার পান্নাকে মারধর করে মন্দির থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে । এটি উদ্বেগজনক যে, গত ২৬ ও ২৭ জুলাই, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর উগ্র-উত্তেজিত জনতা সংগঠিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২০ টি বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বহু পরিবারকে আতঙ্কিত করে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। 

এটি উদ্বেগজনক যে, এই সময়ে সারাদেশে ৫০ টিরও বেশি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দুর্বৃত্তরা নুরুল হক ওরফে 'নুরাল পাগলা' এর কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলা করে।  এমনকি মরদেহ কবর থেকে তুলে মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা। এই ঘটনায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার আসাদপুর গ্রামে কফিল উদ্দিন শাহের মাজার, একই গ্রামের আবদু শাহের মাজার, কালাই (কালু) শাহের মাজার ও হাওয়ালি শাহের মাজারে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে । অনেক জায়গায় একাধিকবার আক্রমণ হয়েছে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মাজারের স্থাপনা।

২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ নয় মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৬১ টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৩ জন বাংলাদেশি নিহত, ৩৪  জন আহত, ও ৫৬  জন গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খা‌সিয়াদের গু‌লিতে শাহেদ আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত এবং অপর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে এক বাংলাদেশি যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় নাগরিকরা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সীমান্ত থেকে নাজিমুদ্দিন নামে এক যুবকের এবং কুমিল্লা সীমান্তে গোমতি নদীর পাড় থেকে কাজী ছবির নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ৩২৬৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অপরদিকে বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ আহত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি ও মর্টারশেল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এছাড়াও বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তে  আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক আনসার সদস্যসহ ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এই সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমা থেকে ১৩ টি ট্রলারসহ ৯৮ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

গত নয় মাসে মাসে কমপক্ষে ১৫১১ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৬৬৩ জন, যাদের মধ্যে ৩৯৩ (৫৯%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ১৫২ (২২%) জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে ও আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন নারী । ৩২৬ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ১৯৩ জন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা যে, গত মার্চ মাসে মাগুরায় আছিয়া নামে  ৮ বছরের এক শিশুকে তার বোনের শ্বশুর ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টা করে এবং শিশুটি ৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় (১৩ মার্চ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায়। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ফাতেমা নামের একটি শিশুকে (৬) ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ দীঘিতে ফেলে দেয়। গত ২৯ শে জুন কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণ এবং ৩০ শে জুন ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে বেঁধে মারধর ও স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে । গত নয় মাসে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন ও আহত হয়েছেন ২১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন নারী । পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭৪ জন, আহত হয়েছেন ৬৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৩২ জন নারী। এসিড সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২ এবং আহত হয়েছেন ২ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেন মো. তোহা (২৫) নামের এক ব্যক্তি। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোহার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (২২)।

অন্যদিকে, গত নয় মাসে কমপক্ষে ১০৬৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ২০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৫৬ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ভিকটিমের পরিবার ও এইচআরএসএস এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে, হেফাজতে ও নির্যাতনে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৮ জন সংঘর্ষে বা বন্দুকযুদ্ধের নামে, ৪ জন নির্যাতনে, ১০ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে গত নয় মাসে ০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১১ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিষপান করে ফিরোজা আশরাফী নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

গত ০২ জানুয়ারি সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কাট্টলি বিল এলাকার কিচিং ছড়ায় এ অজ্ঞাত ইউপিডিএফ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ০৬ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশের পিটুনিতে ইয়াসিন মিয়া নামে একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের পর নির্যাতন ও চিকিৎসা না দেয়ায় সোনাপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান (৩৪)  হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়ি থেকে যৌথবাহিনীর হাতে আটকের পর অমানবিক নির্যাতনের কারণে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০) এর মৃত্যু ঘটেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিরাজ হোসেন ও মো. জুম্মন নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বরিশালের উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বাহেরঘাটে ২১ তারিখ সোমবার বিকাল ৬.০টায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে র‌্যবের গুলিতে সিয়াম মোল্লা (১৮) নামক এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিব মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। হতাহত দু’জন সম্পর্কে মামাতো ভাই।  

গত ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি কেন্দ্রিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে ও গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৩৫), ইমন (২৪) এবং রমজান মুন্সী (২৮)। ০২ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বন্ধ ঘোষণা করা একটি কোম্পানির আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সেনাবাহিনী-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে মো. হাবিব (২০) নামে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া গত ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা এলাকায় পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের প্রতিবাদে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি পালনকারীদের সাথে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এসময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৩ জন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের ১ম নয় মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ১৬৬ টি মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ১০৩৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩৪১৩৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গত নয় মাসে বিভিন্ন মামলায় এবং যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কমপক্ষে ৪৪৯৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী । এছাড়া, পুলিশ গত নয় মাসে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের অন্তত ৪৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত নয় মাসে ১৭৬ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৪ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮২৮ জন। গত মার্চ মাসে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভরত বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৭৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। গত জুন মাসে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শ্রমিকের মৃত্যুর জেরে শ্রমিক ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া গত ০২ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রমিকদের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। এছাড়া  ৪ জন গৃহকর্মী মালিকের নির্যাতনে নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ নয় মাসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ১০৪ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। 

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, ও নাগরিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়ন করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আর এ সকল বিষয় বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই “এইচআরএসএস”র পক্ষ থেকে সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় ও সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে এবং দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।    -

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন