হালট্রিপ কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা তাজবীর হাসান গ্রেপ্তার
দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে থাকার পর দেশে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হালট্রিপ কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা, সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তাজবীর হাসান। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে আটকের পর আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরের থানায় হস্তান্তর করেছে। এই নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার কর্তব্যরত অফিসার এসআই আনিসুর রহমান।
এসআই আনিসুর রহমান বলেন, তাজবীর হাসান বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আমরা তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন পিকে হালদারের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
এদিকে অনুসন্ধানী জুলকারনাইন সায়ের খান এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, দেশের নিরাপত্তা সংস্থাদের কার্যক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রায়ই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করি। সম্ভবত সময় এসেছে তাঁদের তৎপরতার কিছুটা হলেও প্রশংসা করার।
আজ ৪ অক্টোবর ২০২৫, মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ একটি সংস্থার প্রচেষ্টায় হাল ট্রিপ কেলেঙ্কারির অন্যতম কুশীলব, সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তাজবীর হাসানকে আটক করা হয়েছে।
পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলো। ২০২০ সালে গ্রাহকদের শত-শত কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎই উধাও হয়ে যায় হালট্রিপ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সি।
তবে জানুয়ারি ২০২০ এ দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও অন্তত দুটি দেশের (তুরস্ক ও ভানুয়াতু) নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে মোহাম্মদ তাজবীর হাসান, এছাড়াও তার মাল্টার রেসিডেনসি এবং স্পেনের গোল্ডেন ভিসা রয়েছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র।
২০২০ সালে গ্রাহকদের শতশত কোটি টাকা মেরে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর পর ২০২০ এর মার্চে তাজবীর ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, এবং দুবাইতে থিতু হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফ্রন্ট কভার হিসেবে দুবাই, স্পেন, মাল্টায় বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, পাশাপাশি উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সরকারী কর্মকর্তাকে ভানুয়াতু এবং তুরস্কের নাগরিকত্ব কিনতেও সহায়তা করে। বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়েছে, এবং আদালতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আশা করছি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এই অর্থনৈতিক অপরাধীর কাছ থেকে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য জানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যদি আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান এই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান হালট্রিপ এর কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত হয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন।

