সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে
২০২৫ সালরে সেপ্টেম্বর মাসে মাজার ও মুক্তচিন্তা বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ১৪টি ঘটনা জানা গেছে। এরমধ্যে ১২টি মাজার–দরবার–খানকায় হামলার ঘটনা রয়েছে। একই সঙ্গে গত আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি নির্যাতন–হত্যা কমলেও বেড়েছে বাংলাদেশে জোরে করে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) ঘটনা। অপরদিকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনের এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিক্ষোভ দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দুটি ঘটনায় গুলিতে ৪ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানা হাজতে ২ বন্দির আত্মহত্যাসহ ৫ জনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। এ মাসে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালাতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনের একটি এবং কারা হেফাজতে আসামি মৃত্যুর ৮টি ঘটনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে কারা হেফাজতে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এর সংখ্যা ছিল ১০। এ মাসে ২ জন কয়েদি ও ৬ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা আগস্ট মাসের তুলনায় কমেছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৮টি ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন ২৯৪ জন। তাদের মধ্যে ৭ জন নিহত এবং ২৮৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৯ জন গুলিবিদ্ধ। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বিএনপির কর্মী সমর্থক এবং ১জনের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট নয়। সহিংসতার ৩৮টি ঘটনার মধ্যে ৫টি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ এবং সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিকান্ড এবং ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এমএসএফ জানায়, আগস্ট মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৮টি। এ মাসে ইতোমধ্যে তা বেড়ে দ্বিগুনে দাঁড়িয়েছে। ১৬টি ঘটনায় সারাদেশের পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, জামালপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ ১৬টি জেলায় ২৯টি প্রতিমা ভাংচুর, ৬টি প্রতিমাতে আগুন, ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ১ জন গ্রেপ্তার, ২টি মন্দিরে চুরি ও ২টি জমি দখল সংক্রান্ত ঘটনা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মাজার ও মুক্তচিন্তা বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লংঘনের ১৪টি ঘটনা জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে– সিলেটের ৪টি মাজার, কুমিল্লাতে ৪টি মাজার, রাজবাড়ির দরবার শরীফ, রাজশাহীর খানকা শরীফ, নেত্রকোণায় পীরের আস্তানা, ময়মনসিংহে খানকা শরীফে অগ্নিকাণ্ড, ভাংচুর ও হামলা।
এদিকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় রাসেল মোল্লা (২৮) নামে ১ জন নিহত এবং ৫০ জনের অধিক আহত হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে ৩৬১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় ১২টি বেশি। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৫৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৩টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। ধর্ষণের শিকার ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ১৮ জন কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু, ৩ জন কিশোরী ও ৮ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু ও ১ জন কিশোরী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৮টি, যৌন হয়রানি ২৪টি, শারীরিক নির্যাতনের ৯৯টি ঘটনা হয়েছে। এসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।
গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৪৩টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৪ জন নিহত ও ৩২ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ২০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ২৯টি ঘটনায় ৬৩ জন সাংবাদিক নানাভাবে হামলা, আইনি হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালরে সেপ্টেম্বর মাসে মাজার ও মুক্তচিন্তা বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ১৪টি ঘটনা জানা গেছে। এরমধ্যে ১২টি মাজার–দরবার–খানকায় হামলার ঘটনা রয়েছে। একই সঙ্গে গত আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি নির্যাতন–হত্যা কমলেও বেড়েছে বাংলাদেশে জোরে করে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) ঘটনা। অপরদিকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনের এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিক্ষোভ দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দুটি ঘটনায় গুলিতে ৪ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানা হাজতে ২ বন্দির আত্মহত্যাসহ ৫ জনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। এ মাসে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালাতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনের একটি এবং কারা হেফাজতে আসামি মৃত্যুর ৮টি ঘটনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে কারা হেফাজতে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এর সংখ্যা ছিল ১০। এ মাসে ২ জন কয়েদি ও ৬ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা আগস্ট মাসের তুলনায় কমেছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৮টি ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন ২৯৪ জন। তাদের মধ্যে ৭ জন নিহত এবং ২৮৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৯ জন গুলিবিদ্ধ। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বিএনপির কর্মী সমর্থক এবং ১জনের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট নয়। সহিংসতার ৩৮টি ঘটনার মধ্যে ৫টি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ এবং সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিকান্ড এবং ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এমএসএফ জানায়, আগস্ট মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৮টি। এ মাসে ইতোমধ্যে তা বেড়ে দ্বিগুনে দাঁড়িয়েছে। ১৬টি ঘটনায় সারাদেশের পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, জামালপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ ১৬টি জেলায় ২৯টি প্রতিমা ভাংচুর, ৬টি প্রতিমাতে আগুন, ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ১ জন গ্রেপ্তার, ২টি মন্দিরে চুরি ও ২টি জমি দখল সংক্রান্ত ঘটনা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মাজার ও মুক্তচিন্তা বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লংঘনের ১৪টি ঘটনা জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে– সিলেটের ৪টি মাজার, কুমিল্লাতে ৪টি মাজার, রাজবাড়ির দরবার শরীফ, রাজশাহীর খানকা শরীফ, নেত্রকোণায় পীরের আস্তানা, ময়মনসিংহে খানকা শরীফে অগ্নিকাণ্ড, ভাংচুর ও হামলা।
এদিকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় রাসেল মোল্লা (২৮) নামে ১ জন নিহত এবং ৫০ জনের অধিক আহত হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে ৩৬১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় ১২টি বেশি। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৫৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৩টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। ধর্ষণের শিকার ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ১৮ জন কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু, ৩ জন কিশোরী ও ৮ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু ও ১ জন কিশোরী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৮টি, যৌন হয়রানি ২৪টি, শারীরিক নির্যাতনের ৯৯টি ঘটনা হয়েছে। এসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।
গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৪৩টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৪ জন নিহত ও ৩২ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ২০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ২৯টি ঘটনায় ৬৩ জন সাংবাদিক নানাভাবে হামলা, আইনি হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুঃখপ্রকাশ
সংবাদটির আগের সংস্করণে ভুলক্রমে এক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত বেড়েছে ১৯ জন' বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দুটি ঘটনায় গুলিতে ৪ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়। প্রতিবেদন তৈরি গুরুতর এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।সংবাদটির আগের সংস্করণে ভুলক্রমে এক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত বেড়েছে ১৯ জন' বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দুটি ঘটনায় গুলিতে ৪ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়। প্রতিবেদন তৈরি গুরুতর এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

