Logo
Logo
×

সংবাদ

‘ধর্মান্তরিত হয়ে’ নিখোঁজ দুই বোন, উদ্বিগ্ন পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩১ এএম

‘ধর্মান্তরিত হয়ে’ নিখোঁজ দুই বোন, উদ্বিগ্ন পরিবার

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ধর্মান্তরের পর থেকেই তারা নিখোঁজ। এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বাবার পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিখোঁজ।

দুই বোনের নাম স্নিগ্ধা রানী (২৪) ও পূর্ণীমা রানী (১৮)। তারা উমরমজিদ ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বর্মনের মেয়ে। স্নিগ্ধা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, আর পূর্ণীমা একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে তারা একসঙ্গে কলেজের উদ্দেশে বের হয়। কিন্তু আর ফেরেনি। ওইদিন সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ধর্মান্তরের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ। বাবা-মা অস্থির দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

বাবা শৈলেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, ‘১৬ সেপ্টেম্বর সকালে দুই মেয়েকে কলেজের পথে এগিয়ে দিয়েছিলাম। সারাদিন তারা ফেরেনি। সন্ধ্যায় হঠাৎ ফেসবুকে জানতে পারি, তারা ধর্মান্তরিত হয়েছে। ফোন দিলে নাম্বার বন্ধ পাই। পরে রাতেই থানায় জিডি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও বাবা-মায়ের একসাথে দুই মেয়ে নিখোঁজ হলে তার মনের অবস্থা কেমন হয় ভেবে দেখুন। ওরা যে সত্যিই ধর্মান্তরিত হয়েছে, তা তো নিশ্চিত নই। কেউ গুম করেছে কি না, আটকে রেখেছে কি না—সেটাও জানি না। বেঁচে আছে কিনা সেটাই জানতে পারছি না। ধর্ম বদলালেও বাবা-মা তো বদলায় না। যে ধর্মেই যাক, আমি চাই ওরা বাড়ি ফিরে আসুক।’

লালমনিরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, ‘১৬ সেপ্টেম্বর ওই দুই তরুণী আমার কাছে এফিডেভিট করেছে। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা বলেছে এবং সূরা ফাতেহা ও সূরা ইখলাস মুখস্থ বলেছে। তার মানে, আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। এরপর নাম পরিবর্তনের আইনি কাগজ তৈরি করে চলে যায়।’ তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আসা হুজুর ও নারীরা নিশ্চয়ই অবস্থান জানেন। তাদের খুঁজে পেলে দুই বোনকেও পাওয়া যাবে।’

দুই বোনের খোঁজে পুলিশও সক্রিয়। প্রযুক্তির সহায়তায় নাগেশ্বরীর একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাদের পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযানে গেলে হাসান ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। বাড়িতে বোরখা পরা কয়েকজন নারীও ছিলেন। কিন্তু বাড়ি তল্লাশির সুযোগ না দিয়ে তারা পুলিশকে বাধা দেয়। ফলে অভিযান ব্যর্থ হয়।

রাজারহাট থানার তৎকালীন ওসি নাজমুল আলম বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছিলাম, এফিডেভিটের সময় হাসান ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাড়িতে তল্লাশি করতে সহযোগিতা না করায় ফিরে আসতে হয়েছে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। তবুও আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি।’

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ দুই বোনের সন্ধানে সব ধরনের প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করছি। আশা করছি দ্রুতই তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে।’

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন