Logo
Logo
×

সংবাদ

প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার বাদ পড়ল তালিকা থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৪০ পিএম

প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার বাদ পড়ল তালিকা থেকে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা হালনাগাদের এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সংলাপের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন, আমরা অনেক কিছুই করে ফেলেছি। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ছিল একটি বড় কাজ, আমরা সফলভাবে তা করেছি। প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিতে পেরেছি।’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৯টি আইন সংশোধন করেছে কমিশন। এছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন–সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের কাজও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সহায়ক হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভোটাধিকারে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা, কারাবন্দী, প্রবাসী কিংবা নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত ভোট দিতে পারেন না। এবার আমরা তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখছি। সকল ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংলাপকে আমরা কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে করি না। আপনাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক কূটনৈতিক এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু ইসির সফলতা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক মোড়বদলের সময়।’ তরুণ প্রজন্মের ভাবনার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘দেশে এখন মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সারা বিশ্বের নজর আমাদের দিকে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বাস্তবতা মাথায় রেখেই কমিশনকে এগোতে হবে। নিরপেক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী আচরণবিধি, সংখ্যালঘু ও নারীদের অংশগ্রহণ—এসব বিষয় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো ভোট পদ্ধতি চালুর আগে সেটির ফলাফল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নতুন পদ্ধতি চালু করা উচিত নয়।’

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নির্দিষ্ট প্রতীকের জন্য কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে।

এই সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাহমুদ হাসানউজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমান, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি জারিফ রহমান, টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামানসহ আরও অনেকে।

সবার মতামত ও পরামর্শে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানান সিইসি। তাঁর ভাষায়, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন