আগামী সপ্তাহে সুশীল সমাজের সঙ্গে ইসির সংলাপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে সুশীল সমাজ, নারী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে তারা। এই সংলাপ শুরু হতে পারে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। আর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে অক্টোবর মাসে।
ইসি সূত্র জানায়, সংলাপের সময়সূচি ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনারদের অনুমোদনের পর অংশগ্রহণকারীদের চিঠি ও ফোনে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সংলাপের সময় অংশ নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধারাও। এ বিষয়ে প্রতিনিধিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে ইসিতে ৫০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। নতুন দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ ২২টি দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চার-পাঁচটি দল নিবন্ধন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব দলকেও সংলাপে আমন্ত্রণ জানাবে ইসি, তবে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কারা সংলাপে থাকবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির শরিক দলগুলোর বিষয়ে কিছু দল আপত্তি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
সংলাপ যাতে কার্যকর হয়, সে জন্য বড় দলগুলোকে এককভাবে এবং অন্য দলগুলোকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে বসানো হবে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী সংলাপ এবং দল নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এদিকে নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কমিশনের অনুমোদনের পর সংলাপ শুরু হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে গ্রুপিং হতে পারে যাতে সময় কম লাগে।
ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটার মতো প্রস্তুতির বড় অংশ শেষ করেছে ইসি। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি ও ডাক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছে।
২০০৮ সালে ড. এটিএম শামসুল হুদার সময় থেকে সংলাপ প্রথা চালু হয়। সংলাপের ভিত্তিতে আইন সংস্কারসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এবারও নির্বাচন কমিশন সুশীল সমাজসহ অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব দিতে চায়।

