Logo
Logo
×

সংবাদ

ফের রাবির ‘পোষ্য কোটা’ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬ এএম

ফের রাবির ‘পোষ্য কোটা’ স্থগিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে এক ধাপ পিছু হটেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামীকাল রোববার, ২১ সেপ্টেম্বর, এই বিষয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এই ঘোষণার সময় উপাচার্যের বাসভবনের সামনের ফটকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। তারা দুটি প্রধান দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন—‘পোষ্য কোটা’র প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং নির্ধারিত সময়েই রাকসু নির্বাচন আয়োজন। ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থী হলে ফিরে গেলেও, কিছু অংশ বলছে—স্থগিত নয়, তারা চায় কোটা বাতিল হোক। ফলে আন্দোলন এখানেই থেমে যাবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের। তারা হুঁশিয়ারি দেন, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাবেন যদি দাবি না মানা হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ভর্তি কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে শর্তসাপেক্ষে তাদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন। এরপর থেকে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা দ্রুতই ব্যাপকতা পায়। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রীরা একযোগে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। এই অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এই কোটা বৈষম্যমূলক, যা এক ধরনের অযৌক্তিক সুবিধা তৈরি করে। তাঁরা বলেন, পোষ্য কোটা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থী আবু হুরায়রা বলেন, "আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে জয় আমরা পেয়েছিলাম, এখন আবার সেই পুরোনো বৈষম্য আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সেটা মেনে নেব না।" একইসুরে শিক্ষার্থী রাফিয়া ইসলাম তমা বলেন, "আজ আমাদের ভাইদের ওপর যে আচরণ করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে এবং নির্ধারিত তারিখেই রাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।"

এদিকে, আন্দোলনের মধ্যে নয়জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন—আরিফ আলভী, সজিবুর রহমান ও আসাদুল ইসলাম—অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার আরেকটি দিক হলো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় উপ-উপাচার্য ও কয়েকজন শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শিক্ষকদের লাঞ্চনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিচার না হলে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।”

এদিকে, ধাক্কাধাক্কির বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীরা আমাদের লাউঞ্জে বসতেও বাধা দেয়। ফিরে গিয়ে আবার ভবনে ঢোকার সময়ও তারা বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আমার হাতের ঘড়ি ও সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। এমনটা খুবই অস্বাভাবিক।”

এই মুহূর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক উত্তপ্ত সময় পার করছে। আন্দোলন-সংঘাত-অনশন—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই হয়তো নির্ধারণ করবে আগামী দিনের গতিপথ।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন