Logo
Logo
×

সংবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পোষ্য কোটা পুনর্বহাল নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম

পোষ্য কোটা পুনর্বহাল নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহালের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে, শিক্ষার্থীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। 

এর আগে দুপুরে উপ-উপাচার্যদ্বয়ের বাসভবনে শিক্ষার্থীরা তালা দিলে বাসভবনের ভেতরে ঢুকতে না পেরে ফিরে আসেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খান, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। একপর্যায়ে তারা জুবেরী ভবনের দিকে আসতে থাকলে শিক্ষার্থীরাও স্লোগান দিতে দিতে তাদের পেছনে আসেন।

পরে জুবেরী ভবনের বারান্দায় আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং ছাপাখানার এক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন‌ শিক্ষার্থীরা। ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় চলে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরই মধ্যে সেখানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন।

ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর এই প্রশাসন বসে আমাদের ওপরই হামলা চালায়। তারা রাকসুকে বানচাল করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এই হামলার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন। এ সময় প্রশাসন ভবনে উপ-উপাচার্য স্যারের গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে তিনি হেঁটে বাসায় যেতে থাকেন। তাকে বাসায় যেতে দেওয়া হয়নি। পরে পাশেই জুবেরী ভবনে আলোচনার জন্য চেয়েছিলেন। জুবেরী ভবনে প্রবেশ করার সময় সামনে এসে শিক্ষার্থীরা দাঁড়ান। তখন এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। কী, কে, কীভাবে শুরু করে জানি না।'

এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভর্তি কমিটির সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় (পোষ্য কোটা) ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এর পর থেকেই বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। পোষ্য কোটা পুনর্বহালের ঘোষণার পরপরই উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলমান ছিল। এতে নতুন বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন