Logo
Logo
×

সংবাদ

প্রথমবারের মতো দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৬ পিএম

প্রথমবারের মতো দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন

উদ্বোধনী দিনের একটি চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রথমবারের মতো জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিল্লির ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়ামে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে খ্যাতনামা এই বস্ত্রশিল্পের সূক্ষ্ম কারুকাজ সম্বলিত জামদানি আগত দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীটি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর টানা চলবে। বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে।

ভারতের খ্যাতনামা কারুশিল্প ও বস্ত্রশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করা চন্দ্রশেখর ভেদা প্রদর্শনীর কিউরেট করছেন। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কারিগরদের বোনা নির্বাচিত জামদানি শাড়ি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ বছরের পুরোনো বিরল দু’টি জামদানিও রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভেদা বলেন, ‘মেশিনের মাধ্যমে জামদানিকে নকল করা যায় না। এর স্বচ্ছতা ও সূক্ষ্মতা যেন বাতাসে ভেসে বেড়ানো জাদুর মতো।’ 

বাংলাদেশের কারুশিল্পের হারানো দিন ফিরিয়ে আনার নেতৃত্বস্থানীয় ও আড়ংয়ের সাবেক শীর্ষ নকশাকারক চন্দ্রশেখর সাহা জামদানির ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন,   ‘এক সময় বাংলার মসলিন ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। আজ জামদানি সেই জায়গায় আছে—এ এমন এক শিল্প যা আপনার চোখে দেখার আর অনুভব করার বিষয়। আশা করি এর ঐতিহ্য দীর্ঘকাল টিকে থাকবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের নকশা ও সংস্কৃতি জগতের অনেকে বক্তব্য রাখেন। পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিজাইনার সুনীতা কোহলি জামদানির অতীত গৌরব স্মরণ করে একে ‘বোনা বাতাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘সম্রাটরা একে লালন করতেন, বণিকরা সাগর পাড়ি দিয়ে নিয়ে যেতেন, কবিরা এর সূক্ষ্মতা ধরতে গিয়ে হিমশিম খেতেন। ইউনেসকো একে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলেছে—আমি বলি এটি অমূর্ত বিলাসিতা, যা মাপতে হয় ধৈর্য, সময় আর মানুষের হাত দিয়ে—মূল্য দিয়ে নয়।’

খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ও ডিজাইনার মুজাফ্ফর আলি জামদানি নিয়ে ঠিক যেন সিনেমাটিক মন্তব্য করেছেন। তিনি জামদানিকে ‘আলো এবং বুননের এক প্রকৃত আনন্দ এবং এমন এক সৌন্দর্য বলে আখ্যায়িত করেছেন—যা শিল্পের প্রতি অভিন্ন উপলব্ধির মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।’

এদিকে, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহ এই প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, চলতি বছর আমাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আমরা কিছু জামদানি প্রদর্শন করি। সেই সময় যে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গিয়েছিল তা থেকেই আমরা এ প্রদর্শনী আয়োজনের উৎসাহ পাই। তার ভাষায়, ‘এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আরও মানুষ জামদানির অনন্ত সৌন্দর্যকে আবিষ্কার করুক তা আমরা চাই।’

এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন দুই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জামদানি তাঁতী—মোহাম্মদ জামাল হোসেন ও মোহাম্মদ সাজিব। দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তাঁতীরা সরাসরি বুনন প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন জামদানি তৈরির সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও টেক্সটাইল অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। 

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন