সরকারি কর্মচারীদের অবসরে সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম
অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের পেনশন-সংক্রান্ত জটিলতাগুলো সমাধান করে একগুচ্ছ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পেনশন ভোগরত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলে দ্বিতীয় স্ত্রী/স্বামীও পেনশন পাবেন, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের পেনশন পুনঃস্থাপনের নির্ধারিত অপেক্ষাকাল ১৫ বছর থেকে কমে ১০ বছর হবে এবং জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পেনশনাররাও সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে চিকিৎসা সহায়তা পাবেন।
এছাড়া শতভাগ পেনশন সমর্পণ-কারীরা সরকার-নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেনশন পুনঃস্থাপন না করে মারা গেলে তাঁদের স্বামী/স্ত্রী বা যোগ্য উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে পেনশন মঞ্জুরের বিষয়টি অর্থ বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বলে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশন-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের প্রতিনিধিরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পেনশন গ্রহীতাদের বিভিন্ন সমস্যা সভায় তুলে ধরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অবসরের পর সরকারি কর্মচারীরা প্রতি মাসে পেনশন পান। পেনশন ভোগকারী মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী/স্বামী আজীবন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে যোগ্য পোষ্যরা নির্ধারিত সময়ের জন্য পেনশন পান।
১৯৮০ সাল থেকে পেনশনের পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেয় সরকার। এরপর অনেকেই পেনশনের পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেন। এভাবে যাঁরা পেনশনের সব টাকা তুলে নিয়ে পারিবারিক কাজে লাগিয়েছিলেন বা সন্তানদের হাতে সব টাকা তুলে দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিপাকে পড়ে যান। এভাবে বিপাকে পড়া পেনশনাররা একটি মোর্চা গঠন করে বহুদিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেনদরবার করেন।
শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর তাঁদের মাসিক পেনশন পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারী অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর পর পেনশন পুনঃস্থাপন করতে পারবেন বলে এক প্রজ্ঞাপনে জানায় অর্থ বিভাগ।
একসঙ্গে যাঁরা পেনশনের সব টাকা তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরা আর মাসিক পেনশন পান না। তাঁদের বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা দিচ্ছে সরকার।
