Logo
Logo
×

সংবাদ

দুই দিন ধরে চলছে জাকসুর ভোট গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৬ এএম

দুই দিন ধরে চলছে জাকসুর ভোট গণনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের ভোট শেষ হয়েছে দুই দিন আগে। কিন্তু ফল এখনো জানা যায়নি। শনিবার সকালে সিনেট ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, রাতভর গণনার পর সকালেও ভোট গোনার কাজ চলছে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের ১৪টি হলের ভোট গোনা শেষ হলেও সাতটি হলের কাজ তখনও বাকি। এর মধ্য দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙে গেছে। তিনি বলেছিলেন শুক্রবার রাতেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হতে পারে।

১২ হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২১টি হলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি হলে ভোট চলে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। রাত ১০টার পর সিনেট ভবনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গোনার কাজ শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছে।

বৃহস্পতিবারের ভোটকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। ভোটের চেয়ে ব্যালট বেশি যাওয়া, প্রতিপক্ষের আচরণবিধি ভঙ্গ, জামায়াত-সম্পর্কিত কোম্পানি থেকে ব্যালট পেপার সরবরাহ, এজেন্টদের প্রবেশে বাধা, ডোপ টেস্টের ফল প্রকাশ না করা—এমন নানা অসঙ্গতির অভিযোগে একে একে পাঁচটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। একজন নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন শিক্ষক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা নির্বাচন বাতিলের দাবি তোলেন।

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এটি আসলে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল। তারা নির্বাচন বর্জন না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়।

গণনার মাঝেই ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যু ভোট গোনায় নিয়োজিতদের মনোবলকে আরও ভেঙে দেয়।

শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২১টি হলের ফল গোনার পর প্রার্থীদের এজেন্টদের ডেকে এনে শুরু হয় জাকসুর ভোট গণনা। সেই সময় সিনেট ভবনের সামনে অনেক শিক্ষার্থী ভিড় জমান। প্রার্থী, সমর্থক ছাড়াও ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সবাই দীর্ঘসূত্রতায় বিরক্ত হয়ে ওঠেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিসুজ্জামান সানি বলেন, “প্রথমে ভোট গোনার পরিকল্পনা ছিল মেশিন দিয়ে। পরে ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠনের আপত্তিতে ম্যানুয়ালি গোনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি ছিল না। ফলে একেকটি হলের ফল গুনতেই এক ঘণ্টার বেশি লেগেছে।”

কেন্দ্রীয় সংসদের এক প্রার্থী সজীব আহমেদ জেনিচ অভিযোগ করেন, “কোটি টাকার মেশিন এনে ব্যবহার করতে না পারা পরিকল্পিত ব্যর্থতা। প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করেছে।”

আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “অল্প সংখ্যক টেবিলে ধীর গতিতে ভোট গোনায় দেরি হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীকে তিনটি ব্যালট দেওয়ায় গণনার কাজ আরও বেড়েছে।”

শিক্ষার্থী তাহসিন মাহমুদ বলেন, “এত দীর্ঘ সময় ধরে ফল না দেওয়া দুঃখজনক। ডাকসু নির্বাচনে এত দেরি হয়নি, অথচ এখানে ৩৩ বছর পর নির্বাচন হলেও প্রশাসন যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি।”

ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে ভোট গণনা, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর যেন অবশেষে একটি সুষ্ঠু ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন