Logo
Logo
×

সংবাদ

বিশৃঙ্খলা-অনিয়ম ও বর্জনসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাকসু নির্বাচন

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম

বিশৃঙ্খলা-অনিয়ম ও বর্জনসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাকসু নির্বাচন

ছাত্রদলের ভোট বর্জন এবং বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ২১টি হলে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টায় শেষ হয়।

সকালে ঢিমেতালে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। এতে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে কোনো সমস্যা না হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪৫ জন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভুল ছিল। ভোটাররা বলছেন, কার্যকরী সদস্য পদে তিনজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যালটে দেওয়া নির্দেশনায় একজনের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে। পরে সেটি ব্যালট সংশোধন করা হয়।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ আসার পর জটিলতা তৈরি হলে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা হল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রায় সোয়া ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুরে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী হল পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু তিনি হলে ঢুকতে পারেননি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ সাদি হাসান। তারপরই জটিলতার সৃষ্টি হয়।

একই কারণে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলে ভোটগ্রহণ আধা ঘণ্টা বন্ধ ছিল। নারী ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নারী সাংবাদিকরাও সেসব কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা পেয়েছেন।

এসবের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী।

এর আগে দুপুরের দিকে ছাত্রদলের প্যানেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘নীলনকশার মাধ্যমে ছাত্রশিবির জয়ী হতে পরিকল্পনা’ করছে বলে তারা মনে করছেন। পরে তাদের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপার মেশিনের পরিবর্তে হাতে গোনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, হলে হলে ভোট গণনা করা হবে। পরে সিনেট হল থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

জাকসুতে এবার মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫, ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮। একজন ভোটার ভোট দেবেন ৪০টি করে; কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি, হল সংসদে ১৫টি পদে।

এবার জাকসু ভোটের মোট প্রার্থী ১৭৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১৩২ জন, নারী প্রার্থী ৪৬ জন। এখানে পদের সংখ্যা ২৫টি।

মোট ২১টি হল সংসদে পদের সংখ্যা ৩১৫টি। প্রতি হলে পদ সংখ্যা ১৫টি। মোট ৪৪৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ ছাত্র হলের প্রার্থী সংখ্যা ৩১৬ জন এবং ১০ ছাত্রী হলের প্রার্থী সংখ্যা ১৩১ জন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন