Logo
Logo
×

সংবাদ

শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রস্তাব পে কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:০৬ পিএম

শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রস্তাব পে কমিশনের

জাতীয় বেতন কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোতে একটি বিশেষ ভাতা প্রস্তাব করা হবে। এই ভাতাটি তাদের জন্য একটি প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর।

এই সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের এক সদস্য, যিনি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি গণমাধ্যমকে এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই ভাতা সশস্ত্র বাহিনী বা অন্যান্য বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বৈঠকে আলোচনার সময় উঠে এসেছে যে, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা বিজ্ঞানী হতে এখন আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। কেউ কেউ এইসব পেশায় পড়াশোনা করেও পরে প্রশাসনিক বা ভিন্নধর্মী চাকরির দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে দেশে বিশেষায়িত পেশাগুলোর মধ্যে দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। নতুন উদ্ভাবনের দিকেও আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

কমিশনের সদস্য বলেন, “আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রস্তাব করব। গবেষণায় যুক্ত এমন শিক্ষকরাও এই ভাতা পাবেন।”

তিনি জানান, যদিও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো আলাদা, তবুও তারা জাতীয় বেতন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাতা চালু রয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ভাতা প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের সদস্য আরও জানান, তাদের প্রতিবেদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বেতন, ভাতা ও কর ব্যবস্থায় যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করার সুপারিশ থাকবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের অনেক আয় করমুক্ত, কিন্তু একই ধরনের আয় বেসরকারি খাতে করযোগ্য। এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা থাকবে।

কমিশন নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে বেসরকারি খাতের কর্মীদের মতামতও নিতে চায়। এজন্য একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে একটি নমুনা জরিপ চালানো হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও হয়তো সম্ভব হবে না। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগেই, অর্থাৎ ইউনুস সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব—এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

সরকার ২৪ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। কমিশনের দায়িত্ব, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা বিশ্লেষণ করতে অর্থ বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সেই প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, তাদের আওতাধীন সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর সংখ্যা, অনুমোদিত পদের হিসাব, মোট বেতন-ভাতা, পেনশন এবং রাজস্ব আয়ের তথ্য পাঠাতে হবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মীরা ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। এই কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিএ বা দারিদ্র্য ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমালোচনার মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪,৬৮৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৮২,৯৭৭ কোটি টাকা।

এই পরিবর্তনের লক্ষ্য একটাই—মেধা যেন আবার ফিরে আসে শিক্ষকতা, চিকিৎসা, গবেষণা আর প্রকৌশলের মতো মূল্যবান পেশায়। দেশের জন্য দরকার এমন একটি কাঠামো, যেখানে কেবল চাকরি নয়, জাতি গঠনের স্বপ্নও বড় হয়ে ওঠে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন