Logo
Logo
×

সংবাদ

৩৩ বছর পর ভোট চলছে জাকসুতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০০ এএম

৩৩ বছর পর ভোট চলছে জাকসুতে

দীর্ঘ ৩৩ বছর অপেক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও ২১টি হল সংসদ নির্বাচন। সকালে ধীরে ধীরে সূর্য উঠতেই ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে আসে এক ধরনের ভোট উৎসবের আবহ। সকাল ৯টার কিছু পর থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সকাল ৮টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় ব্যস্ততা চোখে পড়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রগুলোয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন, সেইসঙ্গে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও যোগ দেন তাদের দায়িত্বে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা ভাগ হয়ে ক্যাম্পাসের গেট ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন।

ভোট শুরুর পরপরই উৎসাহ নিয়ে কেন্দ্রে আসেন শিক্ষার্থীরা। কাজী নজরুল ইসলাম হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস এম হামিদ হাসান বলেন, ‘ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এসে লাইনে দাঁড়াই। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ভোট দিতে পেরেছি।’

আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, হলের কমনরুমে ভোটগ্রহণ চলছে। কিছু ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের দেখা যায়নি। ভোটারদের হাতের আঙুলে দেওয়া হচ্ছে অমোচনীয় কালির দাগ, যথারীতি চলছে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ।

সকাল ১০টায় ওই হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা শিবলী নোমান জানান, “সকাল ৯টা থেকেই ভোট শুরু হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৯ জন ভোট দিয়েছেন। উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়বে বলেই আশা করছি। যদিও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট থাকার কথা ছিল, কীভাবে থাকবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি।”

সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ উজ জামান নামে এক শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে থেকে এসে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অনেক বছর পর জাকসুতে ভোট হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। যাঁরা ক্যাম্পাসের বাইরে আছেন, তাঁদেরও আসা উচিত ভোট দিতে।”

তবে ফজিলতুন্নেছা হলের কেন্দ্রের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। নির্ধারিত সময় পার হলেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি বলে জানান হলের চারজন শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাইফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসজুড়ে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, আনসার, আর্মড পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের বেশি।

জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জানান, “সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে প্রশাসন।”

এবার জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। পাশাপাশি ২১টি হল সংসদেও নির্বাচন হচ্ছে। ভিপি পদে লড়ছেন ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সাতটি প্যানেল। এর মধ্যে চারটি পূর্ণাঙ্গ এবং তিনটি আংশিক প্যানেল। পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, শিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীলদের সম্প্রীতির ঐক্য, ও শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম। আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, অঙ্গীকার পরিষদ, এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এছাড়া অনেকেই লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন