ঘুষকাণ্ডে জড়িত বিআইডব্লিউটিএর দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেল সরবরাহের ঠিকাদারি কাজে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম ও উপপরিচালক মো. ওবায়দুল করিম খান।
এদিকে অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বাংলা আউটলুকে ''গোপন ক্যামেরায় প্রকাশ পেলো বিআইডব্লইউটিএর প্রধান কার্যালয়ে ঘুষের লেনদেন'' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
বাংলা আউটলুকের হাতে আসা ভিডিও ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ এবং পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেলের ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বিনিময়ে উৎকোচ লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম এবং নারায়ণগঞ্জ শাখার সিপিএস ওবায়দুল করিম খান। তাঁরা বিআইডব্লিউটিএ ভবনে একজন ঠিকাদারকে চাপ দিচ্ছেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার ভগ্নিপতি (কাজিনের স্বামী) বীনাকে ঠিকাদারি কাজের লভ্যাংশের তিন ভাগের ক ভাগ দেওয়ার জন্যে। মূলত এই চক্র ঠিকাদারদের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয় এবং কাজ দেওয়ার পর নিজেদের টাকা এভাবেই আদায় করে নেয়।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই বীনা এবং নৌ সংরক্ষণ এবং পরিচালন বিভাগের পরিচালক (ডিসিপি) মো. শাহজাহান এবং উপরে উল্লিখিত দুই কর্মকর্তার চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। বিআইডব্লিউটিএ ভবনে বীনা সংস্থাটির চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফার ভগ্নিপতি হিসেবেই পরিচিত এবং এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি ও তাঁর চক্রে সদস্যরা বিআইডব্লিউটিএ ঘিরে রীতিমতো এক দুর্নীতির আখড়া পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বীনা তাঁর 'কাজিনের স্বামী' এবং তিনি গতবছর তাঁকে দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তখন বীনা ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন। তাই তিনি কাজ দেওয়ার চেষ্টা করবেন এমন কিছু হয়তো বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর সাথে বীনার কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। বীনার এ ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
