Logo
Logo
×

সংবাদ

বিজয়নগরে সংঘর্ষ: নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৬ এএম

বিজয়নগরে সংঘর্ষ: নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এ সময় তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের একটি মেডিকেল বোর্ড।

আজ শনিবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, “নুরুল হকের মাথায় ও নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে। নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় গতকাল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। বর্তমানে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং তিনি সচেতন রয়েছেন, তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।”

গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রথম হামলার অভিযোগ তুলেছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল হককে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “জাপার হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন এবং নুরুল হক গুরুতর জখম হন।”

অন্যদিকে, ঘটনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রথমেই উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। কিন্তু কিছু নেতা-কর্মী ওই আহ্বান উপেক্ষা করে সহিংসতায় লিপ্ত হন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং মশাল মিছিলের মাধ্যমে সংঘর্ষ আরও উসকে দেয়। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। এতে সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নুরুল হকের শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর এবং তাঁর পর্যবেক্ষণ চলছে। আজ সকালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসে।

সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন