লতিফ সিদ্দিকী ও কার্জনসহ ১৫ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩০ পিএম
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ ১৫ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ তথ্য জানিয়েছেন ডিবির নতুন প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় ‘মঞ্চ ৭১’-এর আত্মপ্রকাশ ও লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
আলোচনাসভায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’
অধ্যাপক কার্জনের বক্তব্য শেষ না হতেই একদল ব্যক্তি স্লোগান দিতে দিতে ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। তাঁরা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা এক হও লড়াই করো’ স্লোগান দিতে দিতে গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তাঁরা আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ এলে তাঁদের কাছে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সব দল-মতের মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন, তবে কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। এর মধ্যে ২০-২৫ জন যুবক এসে হইচই শুরু করে এবং আমাদের ঘিরে ফেলে। তবে তারা কারও গায়ে হাত দেয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।’
রমনা বিভাগের এডিসি আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
এর আগে ডিবি হেফাজতে থাকা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যদের মুক্তি চান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বিকেলে টাঙ্গাইলে তাঁর নিজ বাসভবন সোনার বাংলায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মঞ্চ ৭১ নামে এক সংগঠনের ব্যানারে রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি আলোচনা সভায় আমাদের নেতা বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু লোক মব তৈরি করে অনুষ্ঠান বানচাল করে দিয়েছে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কারও সভা-সমাবেশ বানচাল করার আইনানুগ কোনো সুযোগ নেই।’
লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে অনেক কিছুই হতো না। আমি তাঁদের সসম্মানে মুক্তি চাই। ভবিষ্যতে আর যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্যও অধ্যাপক ইউনূসের কাছে আহ্বান জানাই।’