রাজপথে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা, ছয় দফা দাবি উপস্থাপন
ঢাকার দিয়াবাড়িতে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ির গোলচত্বর এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি জানিয়েছেন—নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ, দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন আইন বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তবে শিক্ষার্থীরা তার উপস্থিতিকে প্রত্যাখ্যান করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন এলাকায় পৌঁছালে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তখন ‘আমরা বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, জবাব চাই প্রশাসন’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর করে তোলেন এলাকার বাতাস।
পরে তারা ক্যাম্পাস চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, এই আন্দোলন শুধুমাত্র দাবি আদায়ের জন্য নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান।
শিক্ষার্থী তাহমিদ ফাইয়াজ বলেন, “আমরা মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা কেবল শোক প্রকাশ করছি না, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছি। বিচারহীনতা ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দৃঢ়।” তার সহপাঠী ফারিহা তাবাসসুম বলেন, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। রাষ্ট্রকে এর দায় নিতে হবে। আমরা কেবল মৃতদের জন্য নয়, বেঁচে যাওয়া বন্ধুদের নিরাপত্তার জন্যও কথা বলছি।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১. নিহতদের পূর্ণাঙ্গ ও নিশ্চিত নাম-তালিকা প্রকাশ।
২. আহতদের নির্ভুল তালিকা দ্রুত প্রকাশ এবং চিকিৎসার সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা।
৩. শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যদের প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা।
৪. প্রত্যেক নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো যুদ্ধবিমান বাতিল করে নতুন ও আধুনিক বিমান যুক্ত করা।
৬. প্রশিক্ষণের পদ্ধতিতে আমূল সংস্কার এনে নিরাপদ ও মানবিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা চালু করা।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৭৮ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় জাতি শোকাহত, এবং আজকের দিনটি রাষ্ট্রীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
এই আন্দোলন শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি প্রজন্মের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং মানবিকতার দাবি। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদে ফুটে উঠেছে এক নতুন প্রত্যয়ের বার্তা—নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আর কোনো শিশুর জীবন যেন ঝরে না পড়ে।

