Logo
Logo
×

সংবাদ

সহপাঠী গণধর্ষণের বিচারের দাবিতে মিছিলে ‘হামলার’ নিন্দা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

সহপাঠী গণধর্ষণের বিচারের দাবিতে মিছিলে ‘হামলার’ নিন্দা

১৭ জুলাই ২০২৫ খাগড়াছড়িতে স্কুল শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে পিসিপি-এইচডব্লিউএফের বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ ছাত্র মিছিলে সেনাবাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া বাজারে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও যুব সমাজ ভাইবোনছড়া’র উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল ৮ম শ্রেণির এক পাহাড়ি ছাত্রীর ওপর গণধর্ষণের বিচার দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন ভাইবোনছড়া বাজার এলাকার উন্নয়ন বোর্ড ভবনের পাশের একটি বাসায় এই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় সভাপতি আরমান হোসেন (৩২), সদস্য ইমন হোসেন (২৫), এনায়েত হোসেন (৩৫), শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩২), বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির ইসলাম (২৯) এবং ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল ইসলাম (২৩)।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। কিন্তু বিক্ষোভ চলাকালেই সেনাবাহিনী সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে বিনা উস্কানিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় পালাতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিবিসি নিউজের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি মিলন ত্রিপুরা সেনা সদস্যদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন।

ঘটনার পর এক যৌথ বিবৃতিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা বলেন, “এই সেনা হামলা শুধু ন্যাক্কারজনকই নয়, ধর্ষণকারীদের রক্ষার চেষ্টা বলেও প্রতীয়মান হয়। সেনাবাহিনী এক বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।”

তাঁরা আরও বলেন, “গতকাল গোপালগঞ্জেও সেনাবাহিনীর গুলিতে কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের দমননীতি পাহাড়েও সেনাশাসনের মাধ্যমে চালু রয়েছে, যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও দাবি জানান, “পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবিলম্বে সেনাশাসন প্রত্যাহার করতে হবে, বাতিল করতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত ১১ দফা নির্দেশনা। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার জন্য দায়ী সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং গণধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

তাঁরা ছাত্র-যুব-নারী সমাজকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন