Logo
Logo
×

সংবাদ

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০১:৫১ পিএম

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা মারা গেছেন

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। শনিবার সকালে, রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর শ্যালক আশফাক কাদেরী। তিনি জানান, সকাল ৯টার দিকে শামসুল হুদা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ফজলে রাব্বি খান বলেন, সকাল ১০টার দিকে তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এ টি এম শামসুল হুদা স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সিমিন হুদাকে রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালে রাখা আছে।

২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে, শামসুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সঙ্গে কমিশনার হিসেবে ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং এম সাখাওয়াত হোসেন।

এই কমিশনের সময়েই সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে, ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী আইন সংস্কার করা হয়। চালু হয় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যবস্থা ও ইভিএম।

দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার অংশ নেন। আওয়ামী লীগ ২৩০টি, বিএনপি ৩০টি এবং জাতীয় পার্টি ২৭টি আসনে জয় পায়। বিএনপি সেই সময় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করলেও, নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেয়।

পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। সংবিধানে যুক্ত হয় পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান।

পেশাগত জীবনে শামসুল হুদা ছিলেন একজন অভিজ্ঞ আমলা। ১৯৬৬ সালে, তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ২০০০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

চাকরিজীবনে তিনি বাগেরহাটে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে, তিনি পানি সম্পদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরও আগে, তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এ টি এম শামসুল হুদার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, নীতিবান ও দায়িত্বশীল প্রশাসকের অভাব অনুভব করবে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন