রাজস্ব কাঠামো সংস্কার ও এনবিআর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে 'মার্চ টু এনবিআর' কর্মসূচি শুরু
রাজস্ব খাতের সমন্বিত সংস্কার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে শনিবার থেকে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি শুরু করেছেন আন্দোলনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনবিআর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন সারা দেশের শুল্ক ও কর দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় ভবনের মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা—যাদের মধ্যে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র্যাব এবং কোস্টগার্ড। এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভবনের সামনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানসহ দাঙ্গা মোকাবেলার যান।
অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, এনবিআর চেয়ারম্যান সুনির্দিষ্ট সমাধান না দিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে শনিবার থেকে দেশব্যাপী শুল্ক ও কর অফিসগুলোয় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি (শাটডাউন) শুরু হয়েছে।
এনবিআরের একজন প্রতিবাদকারী কর্মকর্তা বলেন, “বাহিনীর সদস্যরা কাউকে ভবনের ভিতরে ঢুকতেও দিচ্ছেন না, আবার বের হতেও বাধা দিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, শুক্রবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, এনবিআরের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান, কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা এবং আগামী মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও আন্দোলনকারীদের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি বাতিল করে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। তবে আন্দোলনরত কর্মচারীরা এ নির্দেশনা মানেননি এবং পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা দেশজুড়ে কর্মকর্তাদের ঢাকামুখী সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, “এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা ছাড়া কার্যকর সংস্কারের পথ এখন আর খোলা নেই। আমাদের লক্ষ্য যৌক্তিক সংস্কার—তবে তা সকল পক্ষের অংশগ্রহণে হতে হবে। যারা অন্যায় বদলির আদেশ দিয়েছেন, তাদের সেই সিদ্ধান্তও বাতিল করতে হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ মে সরকার এক অধ্যাদেশ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন দুটি বিভাগ—‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ গঠন করে। এই রদবদলের প্রতিবাদে রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

