প্রতিবেদনের প্রতিবাদ ও বাংলা আউটলুকের ব্যাখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম
বাংলা আউটলুক
গত ১০ মাসে বিএনপির হাতে ১২৩ খুন, এনসিপির এই দাবি কতটুকু সত্য? শিরোনামে বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে—
‘বাংলা আউটলুকের ‘বিএনপি-র ১২৩ খুন’ বিষয়ক রিপোর্ট প্রসঙ্গে আমাদের মন্তব্য
১. গাণিতিক সমস্যা: বাংলা আউটলুক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে ১২৩ টি ঘটনার মধ্যে ২০টি বিভ্রান্তিকর, ১৩টি তথ্যগতভাবে ভুল এবং ৫৯টি সঠিক। এই হিসাব অনুযায়ী মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ + ১৩ + ৫৯ = ৯২। তাহলে বাকি ৩১টি ঘটনার কী হলো?
২. বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা ২০টির মধ্যে একটি নাম আমাদের ১২৩ জনের তালিকায়ই নেই। ১৮টি ঘটনায় অভিযুক্তের বিএনপি বা সহযোগী দলের সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পত্রিকার রিপোর্ট থেকেই দেখানো হল। বাংলা আউটলুক বিভ্রান্তিকর বলতে কী বুঝাচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা শুধুমাত্র রিপোর্ট থেকে পাওয়া অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাই বলেছি - যা বাংলা আউটলুক রিপোর্টেই বলা আছে। উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের কোন মন্তব্য ছিল না। কেবল একটি ঘটনায় আমরা অভিযুক্তের সাথে বিএনপি সংশ্লিষ্টতা পাই নি। পরবর্তী আপডেট গুলোতে এই ঘটনাটি সরিয়ে দেবো।
৩. ১৩টি ঘটনায় তথ্যগত ভুল আছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হলেও আর কোন বিস্তারিত নেই। তাই এই দাবি আমরা যাচাই করতে পারিনি।’
বাংলা আউটলুকের বক্তব্য—
১. হতাকাণ্ডের সংখ্যাগত ত্রুটি
‘বিবিসি বাংলাসহ দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২৩টি হত্যাকাণ্ডের খবরের মধ্যে অন্তত ২০টি খবর বিভ্রান্তিকর (মিসলিড) তথ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ১৩টি সংবাদে তথ্যগত ভুল ছিল। এছাড়া ৫৯টি ঘটনার খবর তথ্যগত ঠিক ছিল।’
অসাবধানতাবসত বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত সংবাদে সংখ্যাগত ভুল হয়ছে। প্রকৃতপক্ষে ১২৩টি হত্যাকাণ্ডের খবরের মধ্যে অন্তত ৩৮টি খবর ছিল বিভ্রান্তিকর (মিসলিড) তথ্য দিয়ে প্রকাশ করা। তথ্যগত ভুল ছিল ১০টি সংবাদে। আর তথ্যগত ঠিক ছিল ৭৫টি সংবাদ।
২. প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ২০টি নয়, ৩৮টি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এই ৩৮টি হত্যার ঘটনায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের সদস্যদের অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও দাবিগুলো যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি বা দলটির সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক নেতাদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধের দায়ও বিএনপির উপরই চাপানো হয়েছে। এই ৩৮টি সংঘাতের অধিকাংশই রাজনৈতিক সংঘাত বা সহিসংতা নয়, ব্যক্তিগত, সামাজিক বা অন্য কারণে সংঘাত। ফলে সেগুলোকে রাজনৈতিক সহিসংতা বলায় তা বিভ্রান্তিকর হিসেবে ধরা হয়েছে।
আর মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্থানীয় একটি বাজারে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছানা (৫০) নিহতের ঘটনাটি বাংলা আউটলুকের প্রতিবেদনে নামটি অসাবধানতাবশত রয়ে যায়। এই জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
৩. বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৩টি সংবাদ তথ্যগত ভুল বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলা আউটলুক দেখতে পায় যে, ১৩টি নয়, ১০টি সংবাদ তথ্যগত ভুল। সেই ১০টি ঘটনার পরিসংখ্যানে সংযুক্ত প্রতিবেদন বা সূত্র থেকে খুনিদের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু এই খুনগুলোর জন্য দায়ী করা হয়েছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের। তালিকায় হত্যার শিকার ব্যক্তিদের নামের পাশে উল্লেখিত সূত্রগুলো পর্যালোচনা করে এমনটাই দেখা গেছে।
উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদন যাতে অতি দীর্ঘ না হয়, সেজন্য আমরা অনেক ক্ষেত্রে বর্ণনা কমিয়েছি। সেজন্য সব ঘটনার বিবরণ নেই।
