Logo
Logo
×

সংবাদ

চাকরির অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ফের কর্মচারীদের বিক্ষোভ

Icon

ইউএনবি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৫, ০৪:৩০ পিএম

চাকরির অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ফের কর্মচারীদের বিক্ষোভ

ঈদের ছুটি শেষে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। তারা সচিবালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ছাড়াও একজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আজ সোমবার বেলা ১১টার পর সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় কর্মচারীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এরপর তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন ভবনের নিচে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

পরে দুপুর পৌঁনে ১টার দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের কাছে অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সচিবালয়ের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃত্বে এই আন্দোলন হচ্ছে। ‌

বিক্ষোভ সমাবেশে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির ও মো. নুরুল ইসলাম, কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মচারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, সচিবালয় জেগেছে’, ‘মানি না মানবো না, ফ্যাসিবাদী কালো আইন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আমরা মাঠে ময়দানে ঘুরতেছি। অনেক ক্যাডার সার্ভিস থেকে অনেকেই আন্দোলনে নেমে গেছেন। আমরা একটা জিনিস বুঝে গেছি সরকার আমাদের সঙ্গে সাপ-লুডু খেলা খেলছে।’

তার ভাষ্যে, ‘আমরা চাইলাম মহার্ঘভাতা, পদ-পদবি পরিবর্তন, সচিবালয় ভাতা। সেটা ঠেকানোর জন্য সরকার করলো অভিন্ন নিয়োগবিধি। তারপর এটা নিয়ে সচিবালয়ে বিশাল হুলুস্থুল শুরু হলে সেটা আমরা থামিয়ে দিলাম।’

এ সময় সরকার তাদের কথা না শুনলে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলন ডাকার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, অধ্যাদেশ জারির আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এ পর্যন্ত আমরা কেউ কোনো আলোচনার প্রস্তাব পাইনি।’

আগামীকালও তিনি সচিবালয়ের বাদাম তলায় জমায়েতের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। যদি কেউ না আসেন, তাহলে তাদের ফ্যাসিস্ট দোসর হিসেবে আখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নতুন দাবিও যুক্ত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, 'এই অধ্যাদেশ বাতিল করলে আমরা নীরবে ঘরে ফিরে যাবো। যদি আমাদের আগুনে জ্বালিয়ে আপনারা খেলা করতে চান, তাহলে আমরা এমন খেলা খেলবো আপনারা ঘরে ঢুকতে পারবেন না। আপনারা সে কাজ করতে বাধ্য করবেন না।’

গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবিতে গত ২৪ মে আন্দোলনে নামেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই ২৫ মে রাতে এই অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চার ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে।

অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সর্বশেষ ঈদের ছুটির আগে তিন জুন পর্যন্ত সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মচারীরা। চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সরকারের সাতজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। ১৫ জুনের মধ্যে চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল না করলে ১৬ জুন থেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুমকিও দিয়েছিলেন কর্মচারী নেতারা।

এর মধ্যে গত ৪ জুন অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি সোমবার বিকালে প্রথম বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছে। কমিটির সুপারিশ দেওয়া পর্যন্ত কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন