নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে প্রস্তাবনা দিল এনসিপি, ‘সর্বদলীয় কমিটি’ থেকে নির্দলীয় প্রধান উপদেষ্টার সুপারিশ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রস্তাবে আইনসভার মাধ্যমে নির্বাচনকেন্দ্রিক সরকার গঠনের জন্য নিরপেক্ষ একজন প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
এই সুপারিশপত্রটি ই-মেইলের মাধ্যমে গত ২৫ মে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে পাঠানো হয়। এনসিপির সূত্র মতে, কমিশনের দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু হলে এই প্রস্তাব সরাসরি জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পরবর্তী ধাপের আলোচনা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের খসড়া সুপারিশে সংবিধানে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তার কাঠামোও নির্ধারণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের প্রাথমিক আলোচনায় অধিকাংশ দলই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে মত দিলেও কাঠামোর ধরন নিয়ে একমত হয়নি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ বিলুপ্তির পর বা মেয়াদ শেষ হলে নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকবে, যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। এই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবেন একটি ৯ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (NCC), যার অন্তত সাতজনের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হবে। ব্যর্থ হলে বিকল্প ছয় ধাপের পদ্ধতি অনুসরণ করার সুপারিশও রাখা হয়েছে।
এনসিপির দৃষ্টিতে, এই সরকারের নাম হতে পারে ‘নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার’ বা ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন’। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়ার অন্তত তিন সপ্তাহ আগে ১১ সদস্যের একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদে ভোটের ভিত্তিতে; তবে অন্তর্ভুক্তির জন্য দলকে ন্যূনতম ৫% ভোট পেতে হবে।
সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়পক্ষ তিনজন করে মোট নয়জন নির্দলীয় নাগরিকের নাম মনোনয়ন দিতে পারবে। মনোনয়নগুলো প্রকাশ্যে জনগণের সামনে তুলে ধরার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা থেকে সর্বদলীয় কমিটি ৮-৩ ভোটে একজনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করবে। ব্যর্থ হলে ‘র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা পদে যোগ্যতা নির্ধারণে এনসিপি কিছু নিষেধাজ্ঞার কথাও বলেছে—দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত, নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য অথবা ঘনিষ্ঠ সহযোগী—এমন কেউ প্রধান উপদেষ্টার পদে বসতে পারবেন না।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “এবারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও অবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা হস্তান্তরের কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক দল নির্বাচিত হয়ে অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেছে। সেই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি হলে সরকারি অনুগতদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ বন্ধ হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম হবে।”

