স্পেসএক্স স্টারশিপ ফের ভেঙে পড়ল, এলন মাস্কের মঙ্গল যাত্রার স্বপ্নে আবার ধাক্কা
মঙ্গল গ্রহে মানববসতির স্বপ্নে এগিয়ে যাওয়া এলন মাস্কের মহাকাশযান স্টারশিপের আরেকটি প্রোটোটাইপ মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরের আকাশে ভেঙে পড়ে। এটি ছিল সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, যেটি একাধিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণের স্টারবেস নামক এলাকায় স্পেসএক্স-এর ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই অঞ্চল সম্প্রতি একটি গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরিত হয়েছে এবং ‘স্টারবেস’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথম ধাক্কা দেখা যায়। রকেটের প্রথম ধাপ ‘সুপার হেভি বুস্টার’ গাল্ফ অব মেক্সিকোতে পরিকল্পিত পানিতে অবতরণের পরিবর্তে বিস্ফোরিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, স্টারশিপের দ্বিতীয় ধাপ উপগ্রহবাহী দরজা খুলতে ব্যর্থ হয় এবং এতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ‘সিমুলেটর’ মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি।
যদিও এটি পূর্ববর্তী দুই পরীক্ষার তুলনায় অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছিল, মাঝপথে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে জ্বালানির ফাঁস ঘটে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মহাকাশে নির্ধারিত পথে চলতে গিয়ে এটি ঘূর্ণায়মান অবস্থায় ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্পেসএক্স তাদের সামাজিক মাধ্যমে জানায়, “স্টারশিপ একটি ‘র্যাপিড আনস্কেডিউলড ডিসঅ্যাসেম্বলি’-র সম্মুখীন হয়েছে।” এই বাক্যটি মূলত ব্যর্থতাকে আড়াল করার প্রচলিত এক উপায়, অর্থাৎ ‘রকেটটি বিধ্বস্ত হয়েছে’। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেবে।
এলন মাস্ক প্রতিক্রিয়ায় জানান, “পরবর্তী তিনটি উৎক্ষেপণের ব্যবধান আরও কম হবে – প্রায় প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহে একটি করে উৎক্ষেপণ হবে।”
তবে তিনি উল্লেখ করেননি, যে লাইভ সম্প্রচারে মঙ্গল নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছিল, সেটি এখনো হবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (FAA) মাত্র চার দিন আগে এই উৎক্ষেপণের জন্য স্পেসএক্স-কে ছাড়পত্র দেয়, যা প্রায় দুই মাসব্যাপী তদন্তের পর দেওয়া হয়। জানুয়ারি ও মার্চ মাসের দুটি পরীক্ষাও দ্রুত ব্যর্থ হয়েছিল। সেই সময় রকেট আকাশেই ভেঙে পড়ে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে বহু বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়।
সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার FAA উড্ডয়নের পথে আরও বিস্তৃত ‘ধ্বংসাবশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ চিহ্নিত করেছিল।
উৎক্ষেপণের আগে দক্ষিণ টেক্সাসের সাউথ প্যাড্রে দ্বীপের ইসলা ব্লাঙ্কা পার্কে শতাধিক মহাকাশ–উৎসাহী ভিড় জমান। আশপাশে ছোট ছোট ট্যুরিস্ট বোটও অবস্থান নেয়। লাইভ ভিডিওতে এলন মাস্ককে স্টারবেসের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ‘অকুপাই মার্স’ লেখা টি-শার্ট পরে দেখা যায়।
৫০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান পিয়ার্স ডসন বলেন, “আমি এই রকেট নিয়ে একপ্রকার মোহগ্রস্ত। পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম এসেছি, শুধু এই উৎক্ষেপণ দেখার জন্যই ছেলেকে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে এনেছি।”
৩৩ বছর বয়সী টেক্সাসের অস্টিন শহরের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জোশুয়া উইঙ্গেট বলেন, “বিজ্ঞান কখনও ব্যর্থ হয় না। প্রতিটি পরীক্ষাই শেখার সুযোগ। তাই রকেট ভেঙে পড়লেও এটি ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা।”

