Logo
Logo
×

সংবাদ

দেশের বিচার বিভাগ আজ স্বাধীন: সাংবাদিক শফিক রেহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

দেশের বিচার বিভাগ আজ স্বাধীন: সাংবাদিক শফিক রেহমান

ক্ষমতা থেকে অপসারিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপিলের রায়ে অব্যাহতি পেয়েছেন ‘দৈনিক যায়যায়দিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান।

‘লাল গোলাপ’ খ্যাত এই সংবাদব্যক্তিত্ব বলেন, “আপনারা অবগত আছেন, ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে জয়কে অপহরণ এবং হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। আজ সেই মামলার রায় এসেছে, যেখানে আমাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”

“দীর্ঘ নয় বছর পর ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটেছে। আমি সম্মানিত বিচারকবৃন্দকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই। তাঁরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে দেশের বিচার বিভাগ আজ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।”

মঙ্গলবার ঢাকার আদালতে ঘোষিত রায়ের পর বিচারালয় চত্বরে তিনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই দিনই ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তারিক এজাজ শফিক রেহমানের অব্যাহতির রায় ঘোষণা করেন।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এই মামলায় যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাহমুদুর রহমান খালাস লাভ করেন। এবার শফিক রেহমানকেও মামলাটি থেকে নির্দোষ ঘোষণা করা হলো।

রায় শুনতে তিনি সকাল ১১টার কিছু পর আদালতে উপস্থিত হন। বয়সজনিত দুর্বলতায় একা চলতে অক্ষম এই প্রবীণ সাংবাদিককে তার আইনজীবীরা হাত ধরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। ১১টা ২৩ মিনিটে বিচারক রায় পাঠ করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকদের লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শফিক রেহমান। এরপর তিনি আদালত চত্বরে একটি বটগাছের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন।

তিনি বলেন, “আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে, যিনি বহু সমাবেশ ও অনুষ্ঠানে আমার মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। আমার গ্রেপ্তারের পর তিনি দেশের আইনজীবী সমাজকে আমার পক্ষে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন।”

“এই মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি প্রয়াত আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী এবং সানাউল্লাহ মিয়াকে। তাদের সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদিন মেজবাহ, মাসুদ তালুকদার, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, কামরুজ্জামান সুমন ও শাকিল আহমেদ রিপন। আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

পাশাপাশি, তিনি তাঁর জীবনসঙ্গী তালেয়া রেহমান ও পুত্র সুমিত রেহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

“তালেয়া রেহমান বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। আমার গ্রেপ্তারের সময় থেকেই তিনি বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ আমার ছেলে সুমিতের প্রতি, যিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে আমার মুক্তির দাবিতে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন।”

শফিক রেহমান আরও বলেন, “আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ‘জুলাই বিপ্লব’–এর সাহসী কর্মীদের প্রতি—যাঁরা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা এখনো জীবিত রয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগই আজ ন্যায়ের বিজয় নিশ্চিত করেছে।”

শফিক রেহমান ছিলেন ‘সাপ্তাহিক যায়যায়দিন’ এবং পরবর্তীতে ‘দৈনিক যায়যায়দিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ‘মৌচাকে ঢিল’ নামে একটি ব্যতিক্রমী পাক্ষিক পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন তিনি।

তবে সর্বাধিক পরিচিতি পান টেলিভিশনে ‘লাল গোলাপ’ নামক একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে। তিনি সাংবাদিকতা ছাড়াও লেখক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস কারাগারে ছিলেন শফিক রেহমান। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান।

২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছয় বছর পর ১৮ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে তিনি আবারও দৈনিক যায়যায়দিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বে রয়েছেন।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন