পাবনা সরকারি কলেজে তিনটি হলের নাম পরিবর্তন, সুচিত্রা সেনের নাম বাদ দেওয়ায় সমালোচনা
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে নাম পরিবর্তিত তিনটি ছাত্র ও ছাত্রীনিবাসের নতুন নামফলক মঙ্গলবার দুপুরে উদ্বোধন করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল মিয়া নতুন নামগুলোর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ আবদুল খালেকসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত তিনটি আবাসিক ভবনের নতুন নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল মিয়া এসব নবনির্ধারিত নামের উদ্বোধন করেন।
এই তিনটি আবাসন ইউনিটের মধ্যে আগে যে ছাত্রীনিবাসটি ‘সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাস’ নামে পরিচিত ছিল, সেটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘জুলাই–৩৬ ছাত্রীনিবাস’। পাশাপাশি, গণ–আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামেও নামকরণ করা আরও দুটি হলের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।
নতুন নাম অনুযায়ী, ‘শেখ রাসেল ছাত্রাবাস’ এখন ‘বিজয়–২৪ ছাত্রাবাস’, এবং ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রীনিবাস’ এখন থেকে ‘আয়শা সিদ্দিকা (রা.) ছাত্রীনিবাস’ নামে পরিচিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল খালেক, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক লুৎফর রহমান, বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রশিল্পী সুচিত্রা সেনের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্রীনিবাসটির নাম বদলে ফেলার বিষয়টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে বহুজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংস্কৃতিক কর্মী ও পাবনা ড্রামা সার্কেলের সাবেক সভাপতি গোপাল সান্যাল লিখেছেন,
“সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাসের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় আমি গভীর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। আশা করি, পাবনার সংস্কৃতিবান মানুষ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করবেন।”
সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন,
“সুচিত্রা সেন বাংলা সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী। তাকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকার কথা নয়। তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।”
সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধু জানান,
“সুচিত্রা সেন কোনো রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি আমাদের আবেগ ও সাংস্কৃতিক গর্ব। তাঁর নাম মুছে ফেলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই নাম পুনর্বহালের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল মিয়া বলেন,
“জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী বাস্তবতায় ছাত্রছাত্রীদের দাবির ভিত্তিতে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন অনুযায়ী হলগুলোর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের আশা, এই প্রেক্ষাপটে সবাই দেশপ্রেম, সততা এবং দক্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত হবে।”
পাবনার গোপালপুর এলাকার হেমসাগর লেনে অবস্থিত সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি একসময় অবৈধ দখলে চলে গেলেও দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ২০১৪ সালে পুনরুদ্ধার হয়। বর্তমানে এই বাড়িতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে সুচিত্রা সেন স্মৃতি জাদুঘর।
বলা হয়, তিনি এই বাড়িতেই তাঁর বাবা-মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন এবং ১৯৪৭ সালে বিবাহিত জীবনের শুরুতে কলকাতা চলে যান।

