Logo
Logo
×

সংবাদ

তিনজনকে জামিনে ছাড়ানোর ঘটনায় মাসউদকে কারণ দর্শাও নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৫, ১২:৫১ পিএম

তিনজনকে জামিনে ছাড়ানোর ঘটনায় মাসউদকে কারণ দর্শাও নোটিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্ল্যাটফর্মের তিন নেতাকে জামিনে মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকায় এনসিপি-র সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ-এর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তাঁর নিজ দল।

ওই ঘটনায় সংগঠনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দলটির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে গতকাল বুধবার এক দপ্তর আদেশ জারি করেন যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত।

উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই মাসে সংঘটিত অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হলে, নেতৃত্বের শূন্যতায় মাসউদ সাময়িকভাবে কৌশলগত দিকনির্দেশনায় এগিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের সময়েও তিনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মপন্থায় সক্রিয় ছিলেন। এনসিপির আত্মপ্রকাশের পর থেকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ফ্রন্টে মাসউদ ছিলেন মূল সংগঠক। পরে এনসিপি গঠিত হলে তিনি পান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদ।

সম্প্রতি ধানমন্ডিতে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিক গোলাম মোস্তফার বাসায় রাতের বেলায় প্রবেশের চেষ্টা করে কয়েকজন তরুণ। অভিযোগ রয়েছে, তারা সেখানে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কেউ আছেন দাবি করে স্লোগান দেন ও ঘরে ঢোকার চেষ্টাও করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডি থানায় হাজির হন মাসউদ এবং মুচলেকার ভিত্তিতে ওই তিন তরুণকে ছেড়ে আনেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসায় তাকে বিব্রত অবস্থায় দেখা যায়।

ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈনু জানিয়েছেন, ওই তিনজনকে আবদুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটি থেকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে— “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্বেই মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বী-কে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে বহিষ্কার করেছিল। তবুও আপনি তাদের থানায় গিয়ে জামিনের শর্তে মুক্তি নিশ্চিত করেছেন। এ ধরনের আচরণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন বলেই গণ্য হচ্ছে। এজন্য আপনাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে—কেন আপনার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।”

আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে আছেন—সাইফুল ইসলাম রাব্বী (২৬), পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং সংগঠনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক; ফারহান সরকার দীনা (২৬), একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা মহানগর ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক; মোহাম্মাদউল্লাহ জিসান (২৪), মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের শিক্ষার্থী এবং ট্রাফিক বিভাগে সহায়ক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার পর মাসউদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন—“তিনজনকে আটক করা হয় মব গঠনের অভিযোগে। আমি ডিএমপি কমিশনারের অনুরোধে থানায় যাই এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মামলা রুজু না করায় ওই তরুণদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, “বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিল যিনি বিভিন্ন সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জনতা উত্তেজিত করার কাজে যুক্ত ছিলেন—যেটা আমি পরে জানতে পারি।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আসল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।”


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন