Logo
Logo
×

সংবাদ

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই ভারত-পাকিস্তানকে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫, ০১:২০ পিএম

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই ভারত-পাকিস্তানকে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের টানা গোলাগুলির পর একরকম শান্তি ফিরে এসেছে—যদিও সেটা এখনো টলমলে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চান এবং কাশ্মীর ইস্যুতে সমাধানের পথ খুঁজবেন।

দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই সংঘর্ষে একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে বহু মানুষ প্রাণ হারান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা ও চাপের পর একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে এই সমঝোতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারত-শাসিত কাশ্মীরে আবারও গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়।

সীমান্ত এলাকায় শনিবার রাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল এলাকাগুলো। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে পাকিস্তান গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। আর পাকিস্তান বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, বরং ভারতই লঙ্ঘন করেছে চুক্তি।

রোববার সকাল নাগাদ দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলি থেমে আসে এবং ভারতীয় সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হয়।

এই অবস্থায় ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধবিরতির জন্য আমি দুই দেশের নেতাদের ধন্যবাদ জানাই। যদিও আলোচনা হয়নি, তবুও আমি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বড় পরিসরে বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যু নিয়েও আলোচনার পথ খুঁজে বের করব।”

ভারতের অমৃতসর শহরে, যেখানে সোনার মন্দির অবস্থিত এবং সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে কয়েকদিন ধরে জনজীবন থমকে ছিল, রোববার সকালে সাইরেন বাজিয়ে জানানো হয়, সব কিছু আবারও স্বাভাবিক হচ্ছে। দোকানদার সতবীর সিং বলেন, “পহেলগামে হামলার পর থেকে দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করে দিচ্ছিলাম। এখন অন্তত রক্তপাতের ভয়টা কমেছে।”

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার রাতভর পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভিম্বার এলাকায় কিছু গোলাগুলি হয়েছে, তবে অন্য কোথাও নয় এবং কোনো হতাহতের খবর নেই।

দুই দেশই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর স্বাধীনতা লাভ করে এবং তারপর থেকে কাশ্মীর নিয়ে তিনবার যুদ্ধে জড়ায়। হিমালয়ের কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই পূর্ণ দাবির ভিত্তিতে দ্বন্দ্ব চলছেই।

ভারত বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের কারণে কাশ্মীরে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা চলছে। ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া বিদ্রোহে ইতোমধ্যে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। পাকিস্তান বরাবরই বলে আসছে, তারা কেবল কাশ্মীরিদের নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দুই দেশের মিলিত মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ৭০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি কিছুটা স্থির হলেও, ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছে, তা বলাই বাহুল্য।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন