Logo
Logo
×

সংবাদ

‘ফ্যাসিবাদের বীজ’ ৭২ সালের সংবিধানেই নিহিত: সংস্কার কমিশন

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

‘ফ্যাসিবাদের বীজ’ ৭২ সালের সংবিধানেই নিহিত: সংস্কার কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশন বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ও ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ১৯৭২ সালে রচিত দেশের প্রথম সংবিধানের ‘দুর্বলতাকে’ দায়ী করেছে। এই কমিশনের ভাষ্য, “ফ্যাসিবাদের বীজ ৭২ সালের সংবিধানের মাঝেই নিহিত ছিল।”

আজ শনিবার পাঁচটি খণ্ডে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ নেতৃত্বাধীন এই কমিশন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছিল। 

পাঁচ খণ্ডের এ প্রতিবেদনের প্রথমেই রয়েছে ভূমিকা, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহের সারসংক্ষেপ; যা ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে সরকার। এটি তিন অধ্যায়ে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে বিদ্যমান সংবিধানের পর্যালোচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে সুপারিশসমূহ ও তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে সুপারিশের যৌক্তিকতা।

দ্বিতীয় খণ্ডে ১২১ দেশের সংবিধানের পর্যালোচনার ফল রাখা হয়েছে; তৃতীয় খণ্ডে রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটিসহ ব্যক্তির মতামতের সারাংশ রয়েছে; চতুর্থ খণ্ডে কার্যাবহ এবং পঞ্চম খণ্ডে রাজনৈতিক দলের থেকে সংবিধান সংস্কারের সুপারিশ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরবর্তীকালের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ও শেষপর্যন্ত ফ্যাসিবাদের বীজ ৭২ সালের সংবিধানের মাঝেই নিহিত ছিল। এরই ফলাফল হল প্রতিটি আমলেই ক্ষমতার পূঞ্জীভবন আরও ঘনীভূত হয়েছে, আমলাতান্ত্রিকতা আরও প্রকট রূপ পেয়েছে, বিচারবিভাগ ক্রমশ বেশি বেশি হারে দলীয়করণের শিকার হয়েছে, জবাবদিহিতার অভাবে ক্ষমতাসীনদের আর্থিক দুর্নীতি আরও প্রবল চেহারা নিয়েছে।

“একইভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা দল, রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধ্বংস করেছে। এভাবে ১৯৭২ সালে একজন একক ব্যক্তি ও একটি দলকে কেন্দ্রে রেখে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত উত্তরোত্তর স্বৈরতন্ত্রী চেহারা ধারণ করতে করতে অবশেষে বাংলাদেশ জুড়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে।”

সংসদের মেয়াদ চার বছর করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ রাখাসহ দেশের সাংবিধানিক নাম এবং সংসদীয় কাঠামোতে পরিবর্তনের মত সুপারিশ করা হয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

১৪৪ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ হবে ৪ বছর করে। এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলের প্রধান বা সংসদ নেতা হতে পারবেন না।

এ কমিশনের সুপারিশ প্রস্তুত করতে গিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষের মতামত নেওয়ার কথা বলেছেন আলী রীয়াজ। কমিশনের সদস্যদের পাশাপাশি ৩২ জন গবেষক এতে কাজ করেছেন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন