Logo
Logo
×

অনুসন্ধান

ডিএনসিসির ই-রিকশা

জনকল্যাণের আড়ালে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নীলনকশা

জুলকারনাইন সায়ের

জুলকারনাইন সায়ের

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৪ পিএম

জনকল্যাণের আড়ালে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নীলনকশা

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর নিয়োজিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ যৌথভাবে এই উদ্যোগ নেন। উদ্যোগটি মূলত ঢাকা শহরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার পরিবর্তে নতুন মডেলের ব্যাটারিচালিত রিকশার কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বুয়েট নির্দেশে এই রিকশা নির্মাণের কথাও বলা হয়। যা পুরোপুরি সত্য নয়। 

রিকশার বাইরে গিয়ে যন্ত্রচালিত যানবাহনের অনুমোদনের এখতিয়ার দেওয়া, ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারকে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ও ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন নীতিমালায় ঘোষিত প্রণোদনার বাইরে রাখা হয়। আবার এই সুযোগে এক উপদেষ্টা যানবাহন সংক্রান্ত ব্যবসাও শুরু করেন।


সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন মডেলের রিকশা নামানোর পেছনে কাজ করেছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, ডিএনসিসির প্রশাসক এবং তাদের ঘনিষ্ঠ একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট। তাদের উদ্দেশ্য নতুন উদ্যোগের অন্তরালে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নীল নকশা। এই নকশাকে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিসন্ধি বলে অভিহিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক তহবিল গঠন।  

গণপরিবহনের বাস্তবতা ও থ্রি-হুইলার নির্ভরতা 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই কোটির অধিক মানুষের বাস। এর মধ্যে প্রাইভেট যানবাহন নেই এমন প্রায় দেড় কোটি নাগরিক প্রতিদিন কর্মস্থল বা গন্তব্যে যেতে গণপরিবহনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই গণপরিবহনের প্রধান বাহন বাস অথবা ট্রেন নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করে। এতে এক গন্তব্য থেকে আরেক গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের নির্ভর করতে হয় রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর। ট্যাক্সিক্যাব বা উবার-পাঠাওয়ের মতো অ্যাপভিত্তিক সেবাগুলো সাধারণ জনগণের আয়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। তাই স্বল্প দূরত্বে থ্রি-হুইলারই প্রধান বিকল্প। অথচ ২০০৯ সালের পর থেকে রাজধানীতে নতুন কোনো অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাত্র ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

আবার নতুন একটি অটোরিকশার অনুমোদন যদিও মেলে তবে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিক্রি হচ্ছে ১৫–২০ লাখ টাকায়। অথচ সিএনজিচালিত বাহনটির প্রকৃত মূল‍্য চার/পাঁচ লাখ টাকা। মূলত এই সুযোগে ঢাকা শহরে ঢুকে পড়েছে অসংখ্য অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং অন্যান্য অনিরাপদ যানবাহন। ফলে পরিবেশ দূষণসহ যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। 

নীতিমালা ও প্রণোদনার আড়ালে বাদ পড়া সাধারণ মানুষের বাহন:

অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২১ ও ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন নীতিমালা ২০২৩-এ নানা প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সবচেয়ে জরুরি পরিবহন মাধ্যম ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করেছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, ডিএনসিসির প্রশাসক এবং তাদের ঘনিষ্ঠ একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট। যারা নিজেদের ব্যবসার সুবিধার জন্য উন্নতমানের থ্রি হুইলার আমদানির/সিকেডি সংযোজন শিল্পকে শিল্পনীতিঘোষিত প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত করেছেন।


এদিকে, শেখ আকিজ বশির সরকারের একজন উপদেষ্টা। তিনি বাজেটের আগে আগে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বা ই-বাইক এবং ইলেকট্রিক গাড়ি সংযোজনের ব্যবসা আরম্ভ করেন। আর অনুমিতভাবেই ক্ষমতার সদ্ব্যবহার বা অপব্যবহার করে বাজেটে এই দুটি খাতে ব্যাপক আকারে ভ্যাট এবং আমদানি শুল্ক হ্রাস করে দেন। যেমন—এইচ এস কোড ৮৭.১১ এর আওতাধীন ই -বাইকের স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্রে উৎপাদক পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্তমূল্য সংযোজন কর এবং উক্ত পূর্ণ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরোপনীয় সংযোজন কর আগামকরসহ এবং সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য পার্টস আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম (ক্ষেত্রবিশেষে এক শতাংশ) আমদানি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। কারণ কি? উপদেষ্টার ব্যবসা বলে?

‘বুয়েট ডিজাইনের’ নামে প্রচারণা ও বাস্তবতা 

চলতি বছরের ২২ মে ডিএনসিসি প্রশাসক এজাজ একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেল ডিজাইন’ অনুমোদনের জন্য কমিটি গঠন করেন এবং সেখানে বুয়েটের নাম জোর প্রচার করেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেখানে বুয়েটের সংশ্লিষ্টতা ছিল খুবই সীমিত। এমনকি যাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাদের যানবাহন ডিজাইনে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। প্রকৃতপক্ষে, কুমিল্লার একটি ওয়ার্কশপে তৈরি নিম্নমানের ই-রিকশার স্পেসিফিকেশনই মানদণ্ড হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক মানে কোথাও অনুমোদনযোগ্য নয়।


আইনের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা দখল

সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার শুধু রিকশার পারমিট দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। যন্ত্রচালিত যানবাহনের টাইপ-অ্যাপ্রুভাল ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার একমাত্র কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। বর্তমানে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ নামে শিরোনামে দুটি নীতিমালা অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু এ প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে গত ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়। এতে সিটি করপোরেশনকে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। যা সরাসরি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ও পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

জনস্বার্থের ক্ষতি

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন লাইসেন্স পেতে উদ্যোক্তাদের বিশাল অঙ্কের টাকা গুনতে হবে। যা শেষ পর্যন্ত যাবে একটি চক্রের হাতে। আবার এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিচালিত যানবাহন ব্যাপক দূষণ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যেই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকায় জন্ম নেওয়া ৯৫% শিশুর শরীরে অতিরিক্ত লিড রয়েছে।


এছাড়া সিটি  করপোরেশনের হাতে ক্ষমতা গেলে কেবল প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনুমোদন পাবে, অন্য উদ্যোক্তারা বাদ পড়বেন। মোটকথা প্রতিযোগিতা থাকবে না। এতে ভালো মানের কিছু পাওয়া যাবে না। সবচেয়ে আতঙ্কের ব্যাপার হলো—

প্রজ্ঞাপনে সীমারেখা না থাকা। ফলে সব সিটি করপোরেশনেই একই প্রক্রিয়া চালু হবে। অথচ এই সংস্থাগুলোর এর জন্য কারিগরি সক্ষমতা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে উচিত ছিল উন্নত মানের আমদানিকৃত অথবা দেশে সংযোজনকৃত শুধুমাত্র লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব দুই, তিন,  ছয়, আট ইত্যাদি বিভিন্ন সিট ক্যাপাসিটির ইলেকট্রিক থ্রি হুইলার চালু করে যাত্রীদের সেবার উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা জনস্বার্থ উপেক্ষা করে শুধু ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আইনকানুন পাল্টে ফেলছেন। এতে জনগণ পরিবেশের অধিকতর দূষণ জনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং যানজটের ভোগান্তিরশিকার হবেন। 

আর ভবিষ্যতে এই ক্ষমতাটি সিটি করপোরেশনের হাতে থাকা মানে কমিশনার এবং তাদের আশপাশের ‍সুবিধাভোগীরা এসব থ্রি-হুইলারের লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্য করবেন, এবং তাদের সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ এই খাতে টিকতে পারবেন না। তাই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কি না সেটা একটা বড় প্রশ্ন। 


এটি যে চক্রান্ত তার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে—প্রজ্ঞাপন জারির আগেই দু’একটি প্রতিষ্ঠান তাদেরকে অনুমোদিত হিসেবে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে থাকে। আর প্রজ্ঞাপন জারির প্রায় সাথে সাথেই প্রশাসকের পছন্দের কোম্পানি ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার কোম্পানি এবং উপদেষ্টা আকিজ বশিরের – আকিজ মোটর্স অতি দ্রুততার সাথে তালিকাভুক্ত হয়। আসলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া ছিল। শুধুমাত্র তারা এটিকে আইনি কাঠামোয় আনার জন্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন। 

প্রশ্নের মুখে উদ্দেশ্য

আইন বিচার মন্ত্রণালয় কেন সংসদ না থাকা অবস্থায় তড়িঘড়ি করে এই সংশোধনী আনলো—সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরেকটি কাকতালীয় তথ্য—উপদেষ্টা, আইনপ্রণেতা ও ওয়ার্কশপ মালিক—সবার শিকড় কুমিল্লায়। এতে অনেকেই সন্দেহ করছেন, রাজনৈতিক তহবিল গঠন ও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থই কি তাহলে আসল উদ্দেশ্য? 

অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের ঢাকা শহরে যানযট নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকা শহরে অটোরিকশার সংখ্যা নিরুপণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অটোরিকশাগুলোকে নিরাপদ এবং বেটার ভার্সন দিয়ে রিপ্লেস করা। একইসঙ্গে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণসহ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রিকশাচালক এবং রিকশা লাইসেন্সিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা। রিকশার দাম রিকশাচালকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। 

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সঙ্গে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাবেক মেজর জেনারেল হাফিজ ভাই, খোদাবক্স চৌধুরী, মাননীয় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, শেখ মঈনউদ্দীন, ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রায় ছয়মাসের প্রচেষ্টার পর সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কয়েকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের মাধ্যমে কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সেফটি ফিচার্সসহ ডিজাইন এবং ক্লিয়ারেন্সের বিষয়টি বুয়েটের এক্সপার্টরা দেখেছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমার জানামতে অনেকগুলো কোম্পানি প্রোটোটাইপ তৈরি করলেও রিকশা চালকদের ক্রয়ক্ষমতার বেশি দাম এবং আনুষাঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় রেখে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার আরও পরিকল্পিতভাবে এই কার্যক্রম বাস্তাবয়নের কথা ভাবছে। ইতিমধ্যেই রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার রিকশা চালকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে একটি নিরাপদ রিকশা এবং লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে তাদেরকে বৈধতা দিতে চায়৷ একই সাথে শহরের যানজট নিরসন এবং অনিয়ন্ত্রিত এই খাতটি বৈধতা পাবে এবং ট্যাক্সেশনের আওতায় আসবে। এই কার্যক্রমটি পরীক্ষামূলকভাবে সিটি কর্পোরেশনের একটি জোনে শুরু করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে যেন দুর্নীতির সুযোগ তৈরি না হয় সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন