Logo
Logo
×

অর্থনীতি

'আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থ পাচারের বিষয়টি এড়িয়ে যায় না'

Icon

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৪, ০৪:১১ এএম

'আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থ পাচারের বিষয়টি এড়িয়ে যায় না'

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির মধ্যে সব সময় যেকোন দেশের অর্থ পাচারের বিষয়টি থাকে। বিষয়টি আইএমএফের কর্মসূচির মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়। আমরা কোনো সময় বিষয়টি এড়িয়ে যাই না। বাংলাদেশের অর্থ পাচারের বিষয়ে বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) এর সঙ্গে এক যোগে কাজ করছি। আমরা বিএফআইউ-এর প্রতিটি অর্থ পাচার মামলার অগ্রগতি জেনেছি। অর্থ পাচার রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছি, যাতে বাংলাদেশের অর্থ পাচার কমে আসে।

আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি ছাড়ের পর্যালোচনা শেষে বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে অর্থ পাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মিশনটির প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর এসব কথা বলেন। তার নেতৃত্বাধীন আইএমএফের মিশন টিম ১৫ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে এ সংবাদ সম্মেলন করে ।

এদিকে মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জির সাংবাদিকের আশ্বাস করে বলেন, তৃতীয় কিস্তিতে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ। বাংলাদেশের সাথে চুক্তিটি ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতার নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে। আগামী সপ্তাহে এ অর্থ ছাড় করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির ২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। টাকার অঙ্কে তা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। সাত বছরে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খুবই এটা হতাশাজনক ঘটনা যা প্রতি বছর ধারবাহিকভাবে হয়ে থাকে। অধিক আকারে অর্থ পাচার হওয়ার কারণে দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ভারসাম্য রাখা যায় না।  

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধি দলের নেতা বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সর্ম্পকে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, ইউরোপের যুদ্ধের বাহ্যিক অভিঘাতের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, কিন্তু পর আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের কমে যাওয়া দেশগুলোর মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে। এখন সেই দেশেগুলোর মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে আইএমএফ আশা করছে, দেশের ব্যাংকের সুদের হার বাড়ালে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি আগামী বছর সাড়ে ৯ শতাংশের ওপর থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশ নেমে আসবে। এখন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৪। আইএমএফ বলছেন, আগামী বছর প্রবৃদ্বি হবে  ৬ দশমিক ৬ ।

তিনি আরো বলেন, দেশের ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। কারণ এখন অনুপাতটি মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ। এজন্য জিডিপির ০ দশমিক ৫ শতাংশ ট্যাক্স বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশে ব্যাংকে একত্রীভূতকরণের বিষয়ে মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জোর  ব্যাংকগুলোর একীকরণ করছে না। ব্যাংকগুলো স্বেচ্ছায় একত্রীভূতকরণ করছে। অনেক দেশেই এভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠান একত্রীভূতকরণ করা হচ্ছে ।

আইএমএফ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইএমএফের একটি দল ইসিএফ/ইএফএফ/আরএসএফ ব্যবস্থাপনার আওতায় দ্বিতীয় পর্যালোচনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্টাফ লেভেল চুক্তিতে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় পর্যালোচনা শেষ হলে এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ)/এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটির (ইএফএফ) আওতায় প্রায় ৯৩২ মিলিয়ন ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া পাবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বোর্ডের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার পাবে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন