শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের মানববন্ধন
নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদরাসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী শাহা-নুরউদ্দিন দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, শারীরিক স্পর্শ এবং অশ্লীল কু-প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে মাদরাসা চত্বরে ও বাইশারী বাজারের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনের একপর্যায়ে শিক্ষকপক্ষ ও শিক্ষার্থী–অভিভাবকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম ছাত্রীদের শরীর স্পর্শসহ বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করলে বিষয়টি অভিভাবকদের কাছে স্পষ্ট হয়।
অভিভাবকরা জানান, কয়েকদিন আগে তারা মাদরাসা প্রশাসন, থানা ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামী নেতা রফিক বশির। তারা শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা গত কয়েকদিন আগে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানা এবং ইউওনো বরাবর অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, অতীতেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। “যেখানে একটি মাদরাসার পুরুষ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করে, সেখানে ছাত্রীরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে?” — এমন প্রশ্ন তুলে তারা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

