Logo
Logo
×

সারাদেশ

'চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলায়' বরিশালে তোপের মুখে এবি পার্টির ফুয়াদ

Icon

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৭ পিএম

'চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলায়' বরিশালে তোপের মুখে এবি পার্টির ফুয়াদ

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মীরগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ পাওয়া ঠিকাদারের কাছে ‘স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেছে’—গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছেন। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান।

এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মীরগঞ্জ সেতুর ঠিকাদারদের কাছে স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁরা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান এবং কয়েকজনকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধ লোকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতু উদ্বোধনের জন্য পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মীরগঞ্জে আসেন দুজন উপদেষ্টা। তার আগে সেখানে যান ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মীরগঞ্জ সেতুর ঠিকাদারদের কাছে স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেছে।’ 

এতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বক্তব্য নিয়ে জানতে চান এবং ফুয়াদের বিরুদ্ধে মিছিল করেন। মিছিল সহকারে ফুয়াদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। এ সময়ে ‘ফুয়াদের দুই গালে জুতা মারো তালে, ফুয়াদের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘ফুয়াদ তুই ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আসাদুজ্জামান তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। 

ঘটনার পর আসাদুজ্জামানের মন্তব্যের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এতে বক্তব্য দেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আল আমিন। আতিকুর রহমান বলেন, আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মন্তব্যে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলায় তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

আসাদুজ্জামানের অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, এখনো সেতুর কাজ শুরুই হয়নি, এমনকি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিও হয়নি। এমন সময় কীভাবে, কার কাছে চাঁদা দাবি করল, কাজ চাইল? এ ধরনের অবান্তর বক্তব্য দিয়ে তিনি আমাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও স্থানীয়দের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি আমরা নজরদারিতে রেখেছি।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন