মারা গেছেন ৩ হাজারের অধিক গোরখোদক সেই মনু মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৫, ০৪:১৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার তিন হাজারের বেশি কবর খোঁড়া (গোরখোদক) সেই মনু মিয়া (৬৭) আর নেই। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, শারীরিক অসুস্থতায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় গত মে মাসের মাঝামাঝি তার নিত্য সফরসঙ্গী ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া শারীরিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। দুই সপ্তাহের মত চিকিৎসা শেষে গত ১৪ মে বাড়ি ফিরে এলেও আর আগের মতো হয়ে ওঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ মানবিক মানুষকে হারালাম। এমন মানুষের অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
আজ শনিবার আছর নামাজের পর জয়সিদ্ধি গোরস্থান সলগ্ন মাঠে জানাযা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
মনু মিয়া দীর্ঘ ৪৯ বছরের কর্মজীবনে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক কিংবা বকশিস না নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ৩ হাজার ৫৭টি কবর খনন করেছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত কারো মৃত্যু সংবাদ কানে আসা মাত্রই খুন্তি, কোদাল, ছুরি, করাত, দা, ছেনাসহ কবর খননের সহায়ক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে ছুটে যেতেন।
তার কবরস্থানে ছুটে চলার দীর্ঘদিনের নিত্য সঙ্গী ছিল বাহাদুর নামের একটি ঘোড়া। কিন্তু মনু মিয়া অসুস্থ হয়ে ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে বাড়ি থেকে ঘোড়াটিকে নিয়ে হত্যা করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মনু মিয়া মানুষের শেষ ঠিকানা কবরটি প্রস্তুত করতেন পরম দরদ আর ভালোবাসা দিয়ে। কিন্তু এর জন্য তিনি কোনোদিন কারও কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেননি। সুদক্ষ গোরখোদক হিসেবে মনু মিয়ার সুনাম রয়েছে দুর্গম হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, শাল্লা, আজমিরীগঞ্জসহ পাশের এলাকায়। ছাড়া রাজধানীর বনানী কবরস্থানসহ দেশের নানা প্রান্তে তার সুনাম রয়েছে।
